চূড়ান্ত এনআরসি প্রকাশের পর এক মাসও কাটেনি। ইতিমধ্যেই এনআরসি নিয়ে ‘মোহভঙ্গ’ হয়েছে অসম বিজেপির। সেরাজ্যের অর্থমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হেমন্ত বিশ্বশর্মা জানালেন, বিজেপি এই এনআরসি মানছে না। তাই এনআরসি খারিজ করতে শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে দল। সেই সঙ্গে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে ফের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্থানের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে সিলমোহর দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: বাদল অধিবেশনের জের! রাজ্যসভা থেকে বহিষ্কৃত ২ তৃণমূল সহ ১২ জন সাংসদ
সোমবার বাঙালি অধ্যুষিত বারাক উপত্যকার করিমগঞ্জ ও শিলচরে দলীয় সভা থেকে বিজেপি নেতা হেমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, এই এনআরসিতে আমরা বিশ্বাস করি না। একথাই সুপ্রিম কোর্টে জানানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য বিজেপি। হেমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে অসমে নতুন করে এনআরসি হবে। এতেই থামেননি বিজেপি নেতা। বলেন, যাঁরা এনআরসি নিয়ে হাসছেন, খুব শীঘ্রই তাদের কাঁদতে হবে। এর জন্য অবশ্য মাস তিনেক সময় চেয়ে নেন তিনি। বলেন, ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে যাঁরা এ দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের জন্য সংসদে আইন পাশ হবে।
গত ৩১ শে অগাস্ট প্রকাশিত এনআরসি থেকে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সূত্রের খবর, যার মধ্যে ১২ লক্ষই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এই প্রেক্ষিতে হেমন্ত বিশ্বশর্মার প্রশ্ন, যদি ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ২-৩ লক্ষ মানুষ অন্য কোনও দেশ ছেড়ে ভারতের আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাঁদের কি শত্রু হিসাবে গণ্য করা হবে? ভারতমাতার উপর যারা বিশ্বাস রাখেন, বৌদ্ধ, জৈন, ক্রিশ্চান, শিখ ও পার্সি ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে দরাজ ঘোষণা অসমের অর্থমন্ত্রীর।
অসমের চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি থেকে অনেক বাঙালি, গোর্খা ও হিন্দিভাষী মানুষের নাম বাতিল হয়েছে। তাঁদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার সুযোগ পাওয়া উচিত বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে জানিয়ে এসেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিজেপি নেতা হেমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্য, অসমিয়ারা বাঙালি বিরোধী নয়। অসম সবসময় চায়, বাঙালিরা নাগরিকত্ব পাক।




