১০৯ বলে ৭ রান! বিহারীর ইনিংসকে ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে তুলনা বাবুলের, বিতর্ক

হনুমা বিহারী ও অশ্বিনের ইনিংসের ভূয়সী প্রশংসা ক্রিকেট বিশ্বে

সিডনিতে সাহসী ইনিংস খেলে হারা টেস্ট ড্র করেছেন হনুমা বিহারী ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ক্রিকেট বিশ্বে এখন এই দুই ব্যাটসম্যানের জয় জয়কার। এরই মধ্যে বিহারীর মন্থর ইনিংসকে ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে তুলনা করে নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ট্রোলিংয়ের মুখে আসানসোলের বিজেপি সাংসদ। 

তৃতীয় টেস্টে ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল অনেকগুলো। কিন্তু ভারতের শেষ স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান হনুমা বিহারী অফ স্পিনার অশ্বিনকে সঙ্গে নিয়ে খেলে দিলেন বাকি ৩ ঘণ্টা। নিশ্চিত হারের হাত থেকে বাঁচল ভারত। রাহানের দলের এই সাহসী খেলা প্রশংসা কুড়িয়েছে গোটা বিশ্বে। টেস্ট ক্রিকেট ফের স্বমহিমায়। 

দ্রাবিড়ের জন্মদিনে এমন অসাধারণ ইনিংস খেলতে গিয়ে হনুমা বিহারী করেছেন ২৩ রান, অশ্বিন ৩৯ রান। হয়ত রানের বিচারে তেমন কিছুই না কিন্তু এই ইনিংসে বিহারী খেলেছেন ১৬১ টি বল এবং অশ্বিন খেলেছেন ১২৮ টি বল। ভারতকে অলআউট করতে স্টার্ক, হেজেলউড, নাথান লিও, কামিন্সের পাশাপাশি লাবুশেনও হাত ঘোরান। কিন্তু নড়ানো যায়নি বিহারী-অশ্বিনকে। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম দিনের খেলা যখন শেষ হল, দেখা গেল ২৫৬ বলে ৬২ রানের বহুমূল্য পার্টনারশিপ গড়ে নিশ্চিত হার বাঁচিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। যাকে সেঞ্চুরির চেয়েও দামী বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 

এই প্রেক্ষিতেই এবার বিহারীর ইনিংসকে ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে তুলনা করে হইচই ফেলে দিয়েছেন তারকা সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। 

বরাবর মোহনবাগানের ভক্ত বাবুলকে ক্রিকেট নিয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। সেই বাবুল সিডনি টেস্ট শেষ হতেই ট্যুইটে লিখেছেন, ৭ রান করতে ১০৯ বল! হনুমা বিহারী শুধু ভারতের জেতার সম্ভাবনাকেই শেষ করলেন না আসলে খুন করলেন ক্রিকেটকেই। যত কঠিন হোক, জেতার চেষ্টা না করা ফৌজদারি অপরাধের সমান। 

শেষে অবশ্য বিধিসম্মত সতর্কীকরণের মত জানিয়েছেন, তিনি যে ক্রিকেট সম্পর্কে কিছুই জানেন না এই ধারণা তাঁর ভালমতোই আছে। 

চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়া করতে গিয়ে পন্থ ও পূজারা অসাধারণ খেলছিলেন। বিশেষ করে পন্থ পাল্টা আক্রমণের রাস্তায় গিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে যখন শতরানের কাছে ঠিক তখনই আউট হন। আবার জয়ের আশা ফিরে পায় অজিরা। আউট হন পূজারাও। ভারত ম্যাচ বাঁচাতে পারবে না মনে হচ্ছে যখন, হাল ধরেন বিহারী ও অশ্বিন। মাথায়, গায়ে বলতে গেলে সর্বাঙ্গে আঘাত উপেক্ষা করে তাঁরা ম্যাচ শেষ করে ফেরেন। 

Comments
Loading...