২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বাম-কংগ্রেসের মোকাবিলায় সারদা-নারদা ইস্যুর সামনে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যের ২৯৩ টি আসনে তিনিই প্রার্থী। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ও পান তিনি। তারপর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থতি এখন অনেকটাই পাল্টেছে। বিরোধী রাজনীতির পাল্লা এই মুহূর্তে অনেকটাই ঝুঁকে বিজেপির দিকে। প্রায় তিন মাস আগে হওয়া পঞ্চায়েত ভোটে সেই প্রবণতাই স্পষ্ট। আর এই পঞ্চায়েত ভোটের নিরিখে ঝাড়গ্রাম জেলায় বিজেপি শুধু যে শাসক দলের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে তাই নয়, বহু আসনে জিতে তারা বহু পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনের অপেক্ষায়। সেই ঝাড়গ্রামে দাঁড়িয়ে বিজেপির মোকাবিলায় এবার জঙ্গলমহলের মানুষকে তাঁর ওপরই ভরসা রাখার আবেদন জানালেন তৃণমূল নেত্রী। বললেন, ‘আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আমি যতদিন আছি সাধারণ মানুষকে বিপদে পড়তে দেব না। কারণ, সাধারণ মানুষই আমার পরিবার’। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে জঙ্গলমহলে ভিন রাজ্য থেকে মাওবাদীদের ঢোকানোর অভিযোগ আনেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
জঙ্গলমহলের স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষের যে নানা ক্ষোভ জমা হয়েছে সেই খবর পঞ্চায়েত ভোটের পর বারবারই পৌঁছেছে তৃণমূল নেত্রীর কাছে। সম্প্রতি ঝাড়গ্রামে দলের নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদলও করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে আটকাতে সরাসরি তাঁর হাত শক্ত করার আবেদন করলেন জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে। বললেন, ‘গোটা এলাকায় শান্তি এনেছে তৃণমূল সরকার। সিপিএম আমলে মাওবাদীদের হাতে বছরে ৩০০ মানুষ খুন হোত। শান্তি ফিরেছে বলেই এলাকায় উন্নয়নের প্রকল্প চলছে। সেই উন্নয়নকে ব্যাহত করতেই বিজেপি ঝাড়খন্ড থেকে মাওবাদীদের ঢোকাচ্ছে জঙ্গলমহলে। বেলপাহাড়ির কিছু জায়গায় ঝাড়খন্ড থেকে মাওবাদী ঢুকিয়েছে। ওরা চায় জঙ্গলমহলকে ফের রক্তাক্ত করতে। মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে না পারে। এর পরেই রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলে তাঁর ওপর মানুষকে ভরসা এবং বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপি গোটা দেশের মতো জঙ্গলমহলেও ভাগাভাগির রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এলাকায় আদিবাসী এবং মাহাতোদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছে বিজেপি। কিন্তু তিনি বিভেদের রাজনীতি করেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির কোনও জায়গা নেই বাংলায়। এদিনের ভাষণে আগাগোড়া বিজেপিকে আক্রমণ করলেও আগামী শনিবারই কলকাতায় অমিত শাহর যে কর্মসূচি রয়েছে তা নিয়ে অবশ্য এদিন কোনও মন্তব্য করেননি তৃণমূল নেত্রী। অসমের নাগরিকপঞ্জি ইস্যুতে সম্প্রতি নতুন করে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। কেন্দ্রে সরকার বদলেরও ডাক দিয়েছেন। শনিবার কলকাতার সভা থেকে বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহ কী বার্তা দেন সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

You may also like