জলে কুমির ডাঙায় বাঘ। এই নিয়েই সুন্দরবনের মানুষের জীবন আবর্তিত। শুধুমাত্র বেঁচে থাকার লড়াই। আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া এই সব মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে একটি স্বল্প দৈর্ঘের ছবি ‘বালির দ্বীপ’ মুক্তি পেতে চলেছে আগামী জুন মাসে। ছবিটির পরিচালনা করেছেন এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন প্রশান্ত সরকার। তাঁরও বাড়ি সুন্দরবনে। সম্পাদনা করেছেন অরূপ মন্ডল। প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে স্বেছাসেবী সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ইন্ডিয়া। এই সংস্থার পক্ষে সন্দীপ ভৌমিক thebengalstory.com কে জানালেন এই স্বল্পদৈর্ঘের ছবিটিতে অভিনেতা, অভিনেত্রী, কলাকুশলী, চিত্রনাট্যকার, এমনকী সম্পাদনার দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা সবাই সুন্দরবনের ভূমিপুত্র।

ঝড়খালি এবং নফরগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ১২টি গ্রামে শুটিং হয়েছে। এই সব গ্রামের ছেলে- মেয়েদের রীতিমত প্রশিক্ষণ দিয়ে অভিনয়ের জন্য গড়েপিঠে নেওয়া হয়েছে। মাত্র ৫০ হাজার টাকা বাজেট তাঁদের এই ছবির। ইতিমধ্যেই ছবিটির অফিশিয়াল ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে।
ছবিটির পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার প্রশান্ত সরকারের কথায়, তাঁরা একটি সামাজিক বার্তা দিতে চেয়েছেন। অভাবের তাড়নায় অনেক সময় এই সুন্দরবন অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা বিপদের মধ্যে গিয়ে পড়ে। জনমানবহীন বালির দ্বীপে গিয়ে বন্দি হয়ে পড়ে একদল দামাল কিশোর। সেই ঘটনা নিয়েই এগিয়ে চলে ছবি।  ৪৮ ঘন্টা ধরে ওই কিশোররা আটকে থাকে সুন্দরবনের ওই দ্বীপে। কীভাবে গ্রামের এক কিশোরের উপস্থিত বুদ্ধির জোরে শেষ পর্যন্ত আটক কিশোররা মুক্তি পেল তা জানতে হলে দেখতেই হবে ‘বালির দ্বীপ’।

প্রশান্ত সরকার, পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার

বিদ্যেধরী, মাতলাসহ সুন্দরবনের একাধিক নদীতে হয়েছে শুটিং। কাঁকড়া  বা মাছ ধরতে যাওয়া, মীন বা মধু সংগ্রহ করার মত সুন্দরবনের দৈনন্দিন জীবনের সব মুহূর্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই স্বল্প দৈর্ঘের ছবিটিতে। ইচ্ছে থাকলে অনেক প্রতিকূলতাকে হারিয়েও যে জয়ী হওয়া যায় সেই আত্মবিশ্বাসেই এখন আস্থা রাখছে টিম ‘বালির দ্বীপ’। ২৫ মিনিটের এই তথ্যচিত্র আপাতত মুক্তির অপেক্ষায়।

You may also like