এনআরসির নামে প্রহসন! জোড়া এফআইআর কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলার নামে

অসমের অনেক প্রকৃত নাগরিকের নাম নেই এনআরসিতে, এই ‘ইচ্ছাকৃত’ ভুলের অভিযোগে এনআরসি কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলার বিরুদ্ধে দায়ের হল দুটি এফআইআর। বুধবার গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড়ে দুটি এফআইআর দায়ের করে অসম গড়িয়া-মারিয়া যুব ছাত্র পরিষদ এবং অল ইন্ডিয়া লিগাল এইড ফাউন্ডেশন।
গত বুধবার গুয়াহাটির লাটাসিল থানায় এনআরসি কো-অর্ডিনেটরের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরে অভিযোগ করা হয়, বিপুল টাকা ব্যয়ে ‘হাস্যকর’ নাগরিকপঞ্জি তৈরি হয়েছে। অসম গড়িয়া-মারিয়া যুব ছাত্র পরিষদের এক মুখপাত্রের কথায়, সময় ও অর্থ, দুই ব্যয় করে এনআরসির নামে প্রহসন হয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্রের কথায়, একই পরিবারের একজন সদস্যের নাম রয়েছে, অথচ অন্যদের নাম বাদ। এটা প্রহসন ছাড়া কি?
অন্যদিকে, বুধবার অল ইন্ডিয়া লিগাল এইড ফাউন্ডেশনের তরফে ডিব্রুগড় থানায় প্রতীক হাজেলার বিরুদ্ধে দায়ের হয় আরও একটি এফআইআর। সেখানে অভিযোগ করা হয়, প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিচয়পত্র ও নথি জমা দিয়েও এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি অসমের প্রকৃত বাসিন্দারা। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চন্দন মজুমদারের দাবি, তিনি নিজে অসমের আদি বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও এবং প্রয়োজনীয় নথি দেওয়ার পরেও এনআরসিতে জায়গা পাননি। তাঁর অভিযোগ, সত্যিকারের বাসিন্দাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না মেলার পিছনে রয়েছে ‘ষড়যন্ত্র’ ও কিছু সরকারি আধিকারিকের অপদার্থতা।
এনআরসি নিয়ে অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে অসমের বিজেপি নেতৃত্বও। এই প্রেক্ষিতে অসমের অর্থমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, স্বচ্ছ এনআরসির জন্য ফের শীর্ষ আদালতে আবেদন করবে রাজ্য সরকার। অসমের দুটি জেলায় জরুরি ভিত্তিতে এনআরসি পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করা হবে বলে জানান অসমের মন্ত্রী।

Comments are closed.