গোটা বিশ্বে এই মুহূর্তে হাহাকার ফেলে দিয়েছে করোনাভাইরাস। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টে পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ লক্ষ ২৪ হাজার ৩৭৫ জন মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৬৫ জনের আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৮৭০ জন।
প্রতি মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে পরিসংখ্যান। প্রবণতা বলছে করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন লাখে লাখে মানুষ। তারপর সুস্থ হয়ে উঠছেন। এর মাঝে মৃত্যুও হচ্ছে। কিন্তু জানেন কি, করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, তারপর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও করোনা আপনার পিছু ছাড়বে না? ভাইরাস মুক্তি হয়ত ঘটবে আপনার, কিন্তু করোনাভাইরাস স্থায়ী ছাপ রেখে যাবে আপনার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে।
করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষিতে একটা জিনিস প্রায় সবাই জানেন, কোভিড ১৯ এর ক্ষেত্রে প্রাথমিক উপসর্গ হল শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। অর্থাৎ, করোনায় প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আপনার লাংস বা ফুসফুস। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, করোনাভাইরাস স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে আপনার কিডনি, রক্তসঞ্চালন, লিভার সহ শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করে এমনই কথা জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
ফুসফুস (Lungs)
ফুসফুস হল করোনাভাইরাসের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। বেডরুম বলতে পারেন। এখানে ঘাঁটি গড়ার পর সর্দি বা ড্রপলেট আকারে আপনার প্রত্যেকটি হাঁচি-কাশির মধ্যে দিয়ে এই মারণ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। অসাবধানতায় আক্রান্ত হন আপনার আশেপাশে থাকা বহু মানুষ। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। গবেষকরা মনে করছেন, সার্স বা মার্সের ভাইরাস যেমন ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি করে দিয়ে যায়, করোনাভাইরাস গোত্রের সাম্প্রতিক মারণ ভাইরাসটিও তাই করে। শতকরা ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ফুসফুসের সামান্য সংক্রমণ দিয়ে শুরু হয়ে তা অত্যন্ত জটিল সামগ্রিক সংক্রমণের আকার নিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে শ্বাসকষ্টের যে উপসর্গ থেকে করোনা মাথাচাড়া দেয়, যথা সময়ে চিকিৎসা তা সারিয়ে তুলতে পারে। কিন্তু ফুসফুসে যে ক্ষত হয় তা মেরামতযোগ্য নয় বলেই এখনও মনে করছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। ফলে করোনা বিদায়ের পরও আপনার ফুসফুস নিয়ে চিন্তা থাকবেই।
পাকস্থলী (Stomach)
করোনা গোত্রের সার্স কিংবা মার্সে পেটের গোলমাল দেখা গিয়েছে। ডায়েরিয়ার উপসর্গও দেখা গিয়েছে কয়েকটি ক্ষেত্রে। একাধিক স্টাডিতে দেখা গিয়েছে, পেটের সমস্যা বা ব্যথা দিয়ে করোনার হামলা শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচলেও পাকস্থলীর স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তবে এখনও তা প্রমাণিত নয়। যদিও এই সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না গবেষকরা।
রক্ত (Blood)
আরও পড়ুন: #মিটুঃ যৌন হেনস্থার অভিযোগ, সুহেল শেঠের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল টাটা সন্স
করোনা মোকাবিলা করতে গিয়ে হয়ত আপনাদের লিভারে তৈরি হচ্ছে উচ্চ মাত্রার উৎসেচক। এই পরিস্থিতিতে রক্ত কণিকা এবং প্লেটলেটস তৈরি করতে গিয়ে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। কম রক্তচাপ বা হাইপোটেনশন ডেকে আনতে পারে হৃদরোগ। বিশেষ ক্ষেত্রে মৃত্যু হওয়াও অসম্ভব নয়।
যকৃৎ (Liver)
ব্রেন বা মস্তিষ্ককে বাদ দিলে লিভার দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। করোনা মোকাবিলা করতে প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরির কারখানাও সেই লিভার। ফলে করোনা মোকাবিলায় যে উৎসেচক আপনার লিভার তৈরি করছে, তা আবার গোলমাল পাকাতে পারে অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গের স্বাভাবিকতায়। ফলে করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে লিভারে প্রদাহ বা জ্বলুনী প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে। পরবর্তীতেও যা আপনাকে ভোগাতে পারে।
কিডনি (Kidney)
দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি। করোনাভাইরাসে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিরল হলেও এমন উদাহরণ আছে। কিন্তু তার পরিণতি ভয়াবহ। সংক্রমণ কিডনিতে হামলা চালায় কম রক্তচাপ, সেপসিস অথবা মেটাবলিক ডিসরাপশনের মধ্যে দিয়ে। এরপর আপনি চিকিৎসা পেলেন এবং ক্রমান্বয়ে সুস্থও হয়ে গেলেন। কিন্তু জানেন কি, যে পদ্ধতিতে করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা হচ্ছে, তাতে মালটি অর্গান ফেলিওর, দীর্ঘসময় ভেন্টিলেশনে থাকা এবং রোগীর উপর প্রয়োগ করা অ্যান্টিবায়োটিকের সাইড এফেক্ট হতে পারে কিডনিতে। যার পরিণতিতে হতে পারে কিডনি ফেলিওর পর্যন্ত।

