বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেই অর্থনীতিতে জোড়া ধাক্কার মুখে মোদী সরকার। জানুয়ারি থেকে মার্চ, বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকেই মুখ থুবড়ে পড়ল দেশের জিডিপি। বর্তমানে ভারতের জিডিপির হার ৫.৮। পরিসংখ্যানবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এক্ষেত্রে বছরের সম্ভাব্য জিডিপি হতে পারে ৬.৮, যা গত ৫ বছরে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার দিনই বেকারত্ব নিয়ে সরকারি তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়া রিপোর্টকে সত্যি করে দেখা যাচ্ছে, ২০১৭-১৮ সালে বেকারত্বের হার গিয়ে পৌঁছেছে ৬.১ শতাংশে। যা গত সাড়ে ৪ দশকে সর্বোচ্চ। তবে জিডিপি হ্রাসের প্রসঙ্গকে গুরুত্ব দিতে নারাজ অর্থ সচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ। তাঁর দাবি, এই হ্রাস সাময়িক। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করবে।
আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশে গুলি করে খুন বিশ্ব হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতিকে, উত্তেজনা
এদিকে প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি হ্রাস পাওয়ায় চিনের তুলনায় পিছিয়ে গিয়েছে ভারত। শুক্রবার প্রকাশিত রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের প্রথম তিনমাসের জিডিপি ৫.৮। যেখানে একই সময় চিনের জিডিপি বেড়েছে ৬ শতাংশেরও বেশি হারে।
গত ৩০ শে মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের জন্য শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, আর তার একদিনের মধ্যেই অর্থনীতিতে এক নতুন চ্যালেঞ্জ এসে পড়ল তাঁর সরকারের ঘাড়ে। সমীক্ষা বলছে, গত দু’বছরের মধ্যে ২০১৯ সালের প্রথম তিন মাসে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে কম। আর এখানেই ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়েছে চিন।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের একটি সমীক্ষায় অর্থনীতিবিদরা অনুমান করেছিলেন, শেষ ত্রৈমাসিক ভারতের জিডিপির হার হবে ৬.৩ শতাংশ, কিন্তু বাস্তবে তা ৫.৮ শতাংশে এসে থেমেছে। ওই একই সময়ে চিনের আর্থিক বৃদ্ধির হার হয়েছে ৬.৪ শতাংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেষ পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিপির হার সর্বনিম্ন হয়েছে ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে। যেখানে ২০১৭- ১৮ আর্থিক বছরে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.২ শতাংশ, ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে তা এসে ঠেকেছে ৬.৮ শতাংশে। গত তিনটি ত্রৈমাসিক ধরে নিয়মিতভাবে কমেছে জিডিপির হার। আর ঠিক উল্টো হয়েছে চিনের ক্ষেত্রে। বর্তমানে ভারতকে সরিয়ে বিশ্বের দ্রুততম আর্থিক বৃদ্ধির দেশ হিসেবে প্রথম স্থান দখল করেছে চিন। তবে তা নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নন আমলারা। অর্থ সচিবের দাবি, প্রথম ত্রৈরাশিকের হিসেব দেখে সারা বছর মাপতে যাওয়ার কোনও অর্থ হয় না। বছর শেষে দেখা যাবে, চিনকে টপকে ফের ভারতই বিশ্বে দ্রুততম আর্থিক বৃদ্ধির অর্থনীতি হয়ে উঠেছে।




