শুভ্রাংশুর উচিত এখনই দল ছেড়ে দেওয়া, মুকুলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলার জেরে বিস্ফোরক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

প্রতারণার অভিযোগে মুকুল রায়ের শ্যালক সৃজন রায় গ্রেফতার। একই মামলায় অভুযুক্ত মুকুলও। গ্রেফতারি এড়াতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। মুকুল রায়ের ছেলে এবং তৃণমূলের বিধায়ক শুভ্রাংশু এ’ব্যাপারে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন। একদিকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত বাবা, অন্যদিকে দল। সামনে পঞ্চায়েত ভোট। তার আগে তৃণমূলে কী ভবিষ্যৎ শুভ্রাংশু রায়ের? মুখ খুললেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, সভাপতি, উত্তর ২৪ পরগনা তৃণমূল কংগ্রেস

প্রশ্নঃ মুকুল রায় প্রতারণায় মামলায় অভিযুক্ত। ঘনিষ্ঠমহলে বলছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি হচ্ছে।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকঃ কীসের প্রতিহিংসা? মোহনপুর থেকে হালিশহর পর্যন্ত এক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বানিয়েছে তৃণমূলকে সামনে রেখে। আই হসপিটাল থেকে ডায়গনস্টিক সেন্টার, নামে-বেনামে হাজারটা ব্যবসা। তার মধ্যে এতগুলো ছেলেকে রেলে চাকরি দেবে বলে প্রতারণা করেছে। সবাই তো আদালতে অভিযোগ করেছে। আস্তে-আস্তে সব বেরোবে। এলাকার মানুষ সব জানে।

প্রশ্নঃ মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশু তো তৃণমূলের বিধায়ক। দলে তাঁর কী ভবিষ্যৎ?

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকঃ ওর আবার দলে ভবিষ্যতের কী আছে! শুভ্রাংশুর তো এখনই উচিত দল ছেড়ে চলে যাওয়া। দলে আছে কেন এখনও? দলের মধ্যে নেতাদের মধ্যে ওর কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। কর্মীদের মধ্যে কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। কোনও কাজও করছে না দলের জন্য। এখনই শুভ্রাংশুর দল ছেড়ে দেওয়া উচিত।

প্রশ্নঃ এই কথা কি দলের পক্ষ থেকে শুভ্রাংশু রায়কে জানানো হয়েছে?

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকঃ দল কেন জানাতে যাবে। শুভ্রাংশুর যদি মন দিয়ে তৃণমূল করার ইচ্ছে থাকত তবে তো দলের কাজ করত। পঞ্চায়েত ভোট আসছে। আমাকে তো ফোন করেনি। পুরো জেলার সব নেতা ফোন করছেন। কী করবেন না করবেন জানতে চাইছেন। আমাকে ফোন করলেই আমি পঞ্চায়েত ভোটের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতাম। শুভ্রাংশুর নিজেরই উচিত সরে যাওয়া। কাঁচড়াপাড়া-বীজপুরের মানুষ ধরে ফেলেছে বাবা-ছেলের কারবার। শুভ্রাংশু নিজে থেকে সরে না গেলে আস্তে-আস্তে দল থেকে আইসোলেটেড হয়ে যাবে।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের এই বক্তব্যের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি শুভ্রাংশু রায়। মুকুল রায়কে ফোন করা হলে, তিনি কথা বলেননি।

Comments
Loading...