Take a fresh look at your lifestyle.

বিহারের পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত দীপেশ চন্দক উধাও মামলায় দুই ব্যবসায়ীকে হেনস্থার অভিযোগে সিবিআই অফিসার পঙ্কজ শ্রীবাস্তবকে নোটিস কলকাতা পুলিশের

কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও সিবিআই-এর নজিরবিহীন দ্বৈরথে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও সংঘাত শুরু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে প্রায় ৪০ জন সিবিআই অফিসার হাজির হন। এরপরে, ওই অফিসারদের আটকে করে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। শুরু হয় কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সিবিআই-এর এক নজিরবিহীন সংঘাত।
তার ঠিক পরদিনই, সোমবার, এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ভবানীপুর থানা একটি নোটিস পাঠায় সিবিআই জয়েন্ট ডিরেক্টর পঙ্কজ শ্রীবাস্তবকে। নিজাম প্যালেসে সিবিআই জয়েন্ট ডিরেক্টরের হাতে সেই নোটিস ধরিয়ে দিয়ে আসেন ভবানীপুর থানার পুলিশের একটি দল। এই নোটিস নিয়ে সিবিআই-এর উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে দিল্লি উড়ে যান সিবিআই জয়েন্ট ডিরেক্টর। কিন্তু কোন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিবিআই জয়েন্ট ডিরেক্টর পঙ্কজ শ্রীবাস্তবকে এই নোটিস দিল কলকাতা পুলিশ?
সূত্রের খবর, গত বছরের ১৭ ই অগাস্ট বিহারের পশু খাদ্য কেলেঙ্কারির মামলায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী জনৈক দীপেশ চন্দক সিবিআই অফিসারের গাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান রহস্যজনকভাবে । ঘটনাটি ঘটে হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন ফোরশোর রোডে। এর পরদিন সন্ধ্যায় সিবিআইয়ের সাব ইন্সপেক্টর হাওড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনায় জেরে সিবিআই-এর অন্দরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। একজন সিবিআই অফিসারের চোখে ধুলো দিয়ে অভিযুক্ত দীপেশ চন্দক কীভাবে তাঁর গাড়ি থেকে নেমে গেলেন তা জেনে বিস্মিত হয় পুলিশও। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে সিবিআই।


পড়ুন, দীপেশ চন্দক মামলাঃ বিহারের পশু খাদ্য মামলায় এক সময়ের অভিযুক্ত কলকাতার এক ব্যবসায়ী উধাও, সিবিআই অফিসারকে জেরা রাজ্য পুলিশের, চাঞ্চল্য


জানা গিয়েছে, জনৈক বৈভব খাটোর ও বিবেক কুমার আগরওয়াল নামে দুই ব্যবসায়ীকে ফরশোর রোড এলাকা থেকে আটক করে নিজাম প্যালেসে নিয়ে গিয়েছিলেন সিবিআই অফিসার সুনীল মিনা ও অন্য অফিসাররা। বৈভব খাটোর নামে ওই ব্যবসায়ী তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীকে অযথা হয়রানি করা হয়েছে এই মর্মে, মিনাসহ বেশ কয়েকজন সিবিআই অফিসারের বিরুদ্ধে আলিপুর আদালতে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন। পরে আলিপুর আদালতের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এবছর ২১ শে জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে সিবিআই অফিসারদের বিরুদ্ধে মামলা শুরু করে ভবানীপুর থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য, বিহারের ৯০০ কোটি টাকার পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল পলাতক ব্যবসায়ী দীপেশ চন্দকের বিরুদ্ধে। গত বছরের অগাস্ট মাসে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার একটি গোডাউন ঘুষ দিয়ে লিজ দেওয়ার অভিযোগে দীপেশ চন্দকের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করেছিল সিবিআই।

Comments are closed.