বুধবারের সাংবাদিক বৈঠক থেকে করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পাশাপাশি নিশানা করেছেন সংবাদমাধ্যমের একটি অংশকেও। মমতা ব্যানার্জি বলেন, সবাই যখন প্রাণপাত পরিশ্রম করে করোনার বিরুদ্ধে লড়ছে তখন সংবাদমাধ্যমের একাংশ বিজেপির কথা শুনে নেগেটিভ ও ডেসট্রাক্টিভ ভাইরাসের ক্যারিয়ার হয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে।
এরপরই নাম না করে বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে তাতে মানুষের মধ্যে প্যানিক তৈরি হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম এক তরফাভাবে বিজেপির কথা শুনে নেগেটিভ ও ডেসট্রাক্টিভ ভাইরাসের ক্যারিয়ার হয়ে যাচ্ছে।
এরপরেও মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার তোলেন মিডিয়ার কোথাও বেড নেই, কোথাও চিকিৎসা হচ্ছে না, এই সব বিচ্ছিন্ন খবরের প্রসঙ্গ।
আরও পড়ুন: নয়া পদে বাংলার ‘কালারফুল বয়’, সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট
কাকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর?
সম্প্রতি রাজ্যের সর্বাধিক জনপ্রিয় বাংলা বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত এক সাংবাদিকের মা করোনায় আক্রান্ত হন। তাঁর মাকে কলকাতার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে গিয়ে কত হয়রানি হয়েছে এবং কলকাতার হাসপাতালে বেডের কী অপ্রতুলতা রয়েছে, তা তুলে ধরে একটি খবর সেই সংবাদমাধ্যম সম্প্রচার করে।
সেই খবরটি নির্দিষ্টভাবে তুলে ধরে ট্যুইট করা হয় রাজ্য বিজেপির ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে। মঙ্গলবারই স্বাস্থ্য দফতর বেসরকারিভাবে জানিয়েছিল, কোনও বেসরকারি হাসপাতাল কোথাও যদি করোনা রোগীকে ফিরিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রে আইনত সরকারের আদেশ জারি করার এক্তিয়ার নেই। কিন্তু নবান্নের বক্তব্য যেভাবে এই খবরকে নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে রাজনৈতিকভাবে প্রচার চালানো হয়েছে তা কাঙ্খিত নয়। এদিন এই সংবাদমাধ্যমের নাম উল্লেখ না করলেও মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকে বলেন রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার যথেষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি জানান, এই মুহূর্তে ৭৯০ টি কোভিড বেড ফাঁকা রয়েছে। ফলে বেড না পাওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রাণপণ চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে এই সমস্ত ক্ষেত্রে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্থান রয়েছে বলেও এদিন বলেন মমতা ব্যানার্জি। একইসঙ্গে জানিয়ে দেন, ব্যবস্থা নেওয়া বাংলার সংস্কৃতি নয়। তিনি বলেন, সহ্য করা আমাদের ধর্ম।




