আট দফায় ভোট করানোর সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। নির্বাচনী নির্ঘন্ট নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন কাকে সুবিধা করে দিতে আট দফায় ভোট করানো হচ্ছে? পরিষ্কার জানিয়েছিলেন বিজেপির নির্দেশে এই সময়সূচি। বাংলায় ভোটের জন্য দু’জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন মমতা।
তাঁর অভিযোগ নির্দিষ্ট ভাবে বিবেক দুবেকে নিয়ে। তিনি বলেন, গতবারে বিবেক দুবে কী করেছিলেন তা সবাই জানে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে বাংলায় লোকসভা ভোটেও পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন এই আইপিএস অফিসার। গতবার বাংলায় ভোটের দায়িত্ব পেয়ে বিবেক দুবে একটি মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে লোকসভা ভোটের আগে যথেষ্ট বিতর্ক হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ভোটের প্রসঙ্গে এলেই পশ্চিমবঙ্গ একটি সমস্যা বহুল রাজ্য হয়ে ওঠে। বাংলায় ৭ দফায় লোকসভা ভোট ঘোষণার পরেও এই আমলা বলেছিলেন ‘নির্বাচন কমিশনও জানে পশ্চিমবঙ্গ একটি সমস্যা বহুল রাজ্য, তাই এখানে ৭ দফায় ভোট করানোর সিদ্ধান্ত’। এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছিল তৃণমূল।
আরও পড়ুন: একাধিক মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপক নিয়োগ, জমি আইনে বদল সহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা
পাশাপাশি দায়িত্ব পাওয়ার পর নবান্নে গিয়ে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডিজির সঙ্গে মিটিং করেছিলেন ১৯৮১ সালের অন্ধ্র প্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস বিবেক দুবে। একজন পুলিশ পর্যবেক্ষক রাজ্য সরকারের সচিবদের সঙ্গে এভাবে মিটিং করা প্রোটোকলের মধ্যে পড়ে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। নবান্নে এসে সচিবদের সঙ্গে বিবেক দুবের বৈঠক ভালভাবে নেয়নি নবান্ন। এছাড়াও তৃণমূল আরও বেশ কিছু অভিযোগ তুলেছিল বিবেক দুবের বিরুদ্ধে।
সব মিলিয়ে ২০১৯ লোকসভা ভোটে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে বিবেক দুবের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ ছিল ঘাস ফুল শিবিরের, এবার আবার পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে বিবেক দুবে। তাঁর নাম ঘোষণা হতেই মুখ্যমন্ত্রী নাম করে অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। সবমিলিয়ে কাজে যোগ দেওয়ার আগেই শাসক দলের আক্রমণের মুখে বিবেক দুবে।