Gold ₹143,650/10g
Silver ₹240.40/g
Petrol ₹113.51/L
Diesel ₹99.82/L
Kolkata 29°C
1 July 2026

শহরের প্রান্তিক শিশুদের পড়াশোনার জন্য সল্টলেকে ‘মস্তি কি পাঠশালা’

সেক্টর ফাইভের পথ শিশুদের পড়াশোনার জন্য বিশেষ স্কুল, সাহায্যে মোটোরোলা

শহরের প্রান্তিক শিশুদের পড়াশোনার জন্য সল্টলেকে ‘মস্তি কি পাঠশালা’

বছর চারেক আগের কথা। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ। রাজ্যের তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পের উপনগরী। সেখানেই কলেজ মোড়ে বন্ধন ব্যাঙ্কের শাখায় কর্মরত ছিলেন বন্দনা প্রভা। কলেজ মোড়ের কাছেই বিভিন্ন ঝুপড়িতে বাস করেন দূর থেকে আসা বিভিন্ন নির্মাণকর্মী ও তাঁদের পরিবার। প্রান্তিক, দিন আনি-দিন খাই সব পরিবার। টাকা রোজগারের জন্য এই সব পরিবারের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদেরও কাজে যেতে হয়। কেউ স্থানীয় কোনও হোটেলে রান্নার কাজ করে, কেউ বা চায়ের দোকানে বাসন ধোওয়ার।
রোজ অফিস থেকে ফেরার পথে স্থানীয় এই কচি-কাচাগুলোর সঙ্গে কথা বলতেন বন্দনা। অপরিচিত থেকে তাদের ‘দিদি’ হয়ে উঠতেও বেশি সময় লাগেনি এই যুবতীর। খেলার ফাঁকেই এই বাচ্চাদের জন্য কিছু করার, তাদের শিক্ষার আলোয় আনার কথা মাথায় আসে তাঁর। বন্দনা যুক্ত ছিলেন ‘প্রান্তকথা’ নামের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে। এ বিষয়ে তিনি কথা বলেন সংস্থাটির কর্তাদের সঙ্গে। বন্দনার প্রস্তাবে রাজি হয় ‘প্রান্তকথা’। স্থানীয় শ্রমিক পরিবারের ২৫টি বাচ্চাকে নিয়ে শুরু হয় বিশেষ ক্লাস। জায়গা না থাকায় প্রথম দিকে রাস্তার ধারে অথবা ঝুপড়িতেই নেওয়া হত ক্লাস। পরে সোহিনী দত্ত নামের বন্ধন ব্যাঙ্কেরই অন্য এক কর্মীর উদ্যোগে, ক্লাসের জন্য ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাদের গ্যারেজ ব্যবহারের অনুমতি দেয়। বন্দনার পর প্রীতি নামে প্রান্তকথার আর এক সদস্যা এই ক্লাসের দ্বায়িত্ব নেন। এখন অবশ্য ‘প্রান্তকথা’র একটি টিমের মাধ্যমে এখানে পড়ানো হচ্ছে।
পড়াশোনার পাশাপাশি এই শিশুদের গান, নাচ, হাতের কাজের বিভিন্ন বিষয়েও ক্লাস নেওয়া শুরু হয়। নজর দেওয়া হয় মানসিক উন্নতি, ব্যক্তিত্ব গঠন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির উপর। শুধু পড়াশোনার গুরুগম্ভীর পরিবেশ নয়, খেলার মাধ্যমে সার্বিক মানোন্নয়নের চেষ্টা। এই চিন্তা থেকেই ক্লাসের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মস্তি কি পাঠশালা’। প্রান্তকথার প্রজেক্ট ম্যানেজার অঙ্কিতা সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, এখন বন্ধন ব্যাঙ্কের গ্যারেজ থেকে সরে সল্টলেক টেকনোপলিসের নয়াপট্টির কাছে চলে এসেছে ‘মস্তি কি পাঠশালা’। কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই প্রান্তকথার উদ্যোগে স্থানীয় তিনটি স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। পড়ুয়াদের যাতায়াতের জন্য করা হয়েছে বাসের ব্যবস্থা।
প্রান্তকথা’র এই গোটা উদ্যোগে মোটোরোলা ইন্ডিয়া সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির কর্ণধার বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়। মোটোরোলা ইন্ডিয়ার তরফে পূর্ব ভারতের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রসেনজিৎ রায় জানান, তাদের তরফে বার্ষিক ১০ লক্ষ টাকা সাহায্য করা হচ্ছে ‘মস্তি কি পাঠশালা’কে। এছাড়াও মস্তি কি পাঠশালা’র সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ইন্দু প্রকাশ সিংহ।  ২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিন্টনও ঘুরে গিয়েছেন এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির দফতরে। সেই বছরইমার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এর জন্যও মনোনীত হয় ‘প্রান্তকথা’।

আরও পড়ুন: তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যায় কেন জানেন? কী বললেন মমতা?

Track Latest News Live on TheBengalStory.com and get news updates from West Bengal and around the world.

Bengal

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *