১৬ বছরের কম বয়সীদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নয়, বিধি চালু হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নে। ভারতও কি একই পথে হাঁটবে?

ফেসবুকে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ইস্যুতে যখন বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে, তখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকের মালিকানাধীন এই জনপ্রিয় অনলাইন মেসেজিং অ্যাপটি আর ব্যবহার করতে পারবে না ১৬ বছরের কম বয়সীরা। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই অ্যাপ কর্তৃপক্ষ। তবে বিবিসি সূত্রে খবর, আপাতত ইউরোপীয় ইউনিয়ন গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিতেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বর্তমানে ১৩ বছরের কম বয়সীরা এই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারে না। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নিয়ম চালু হওয়ার পর কেউ হোয়াটসঅ্যাপে নতুন অ্যকাউন্ট খুলতে চাইলে প্রথমেই তার কাছে বয়স জানতে চাওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে কারও বয়স ১৬ বছরের কম হলে তার হোয়াটস অ্যাপ অ্যাকাউন্ট তৈরি হবে না। তবে ১৬ বছরের কম বয়সী কেউ যদি তথ্য গোপন করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে, তা যাচাই হবে কীভাবে সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই নিয়ম চালু হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।
বিবিসি সূত্রে খবর, আগামী ২৫ মে থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে লাগু হতে চলেছে জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর)। এর ফলে সাধারণ মানুষ অনেকাংশে নিজেরাই ঠিক করতে পারবেন, তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য কোনও সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থা ঠিক কীভাবে, কতটা ব্যবহার করতে পারবে। বিধি বলবৎ হওয়ার পর কোনও ব্যক্তি চাইলে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে বা মুছে দিতেও পারবেন। নয়া এই রেগুলেশনে শিশুদের তথ্য যাতে সুরক্ষিত থাকে সে বিষয়েও নির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। এই বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রিয় এই অ্যাপ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নয়া এক প্রযুক্তি আনার কথাও ঘোষণা করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। যার মাধ্যমে কোনও ব্যবহারকারী জানতে পারবেন, হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর কোন কোন ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার হয়েছে।
সম্প্রতি ফেসবুকের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ থেকেও তথ্য চুরির অভিযোগ এসেছ। তাই তথ্যের নিরাপত্তাতেই এখন বেশি জোর দিচ্ছে জনপ্রিয় এই অ্যাপ কর্তৃপক্ষ। তথ্য ফাঁস এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন ভারতেও বহু চর্চিত একটি বিষয়। সূত্রের খবর, এদেশেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধাঁচে নয়া কোনও বিধি চালু হয় কিনা সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে কেন্দ্র।

Comments
Loading...