পঞ্চায়েত ভোটে রক্তাক্ত বাংলা, ভোটের বলি অন্তত ১২। রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্র।

সোমবার সকালে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, গণ্ডগোলের মধ্যে শুরু হয়েছিল রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট। কিন্তু বেলা যত গড়িয়েছে রক্তাক্ত হল বাংলা। বুথ দখল, বোমাবাজি, সংঘর্ষ, ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছে প্রায় সব জেলা। সন্ধ্যে পর্যন্ত পঞ্চায়েতের বলি প্রায় ১২। জখম বহু। এই সংঘর্ষের জন্য রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে কেন্দ্র।
এদিন সকাল থেকেই বহু জায়গায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকে বিরোধীরা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা অভিযোগ করা হয়, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বাংলাদেশ থেকে লোক এনে সন্ত্রাস করছে বিজেপি। বেলা যত বাড়তে থাকে ততই সংঘর্ষের খবর আসতে শুরু করে দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, নদীয়া, হাওড়া, বীরভূম, দুই বর্ধমান, দুই দিনাজপুরসহ প্রায় গোটা রাজ্য থেকেই। বোমা, গুলিতে প্রায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এদিন রাত পর্যন্ত। এদিন সকালে কোচবিহারের নাটাবাড়িতে এক বিজেপি এজেন্টকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিরুদ্ধে। যদিও রবীন্দ্রনাথবাবু সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সারাদিনের এই সন্ত্রস্ত ভোটের পর সোমবার বিকেলেই রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্র। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগে এদিন দুপুর থেকেই সরব হয়েছে সিপিএম, বিজেপি এবং কংগ্রেস। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে অবস্থানও করে বামেরা। বাংলায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পালটা অভিযোগ, তৃণমূলেরই ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলে এক দফার পঞ্চায়েত ভোটে সন্ত্রাসের পরম্পরাই অব্যাহত থাকল বাংলায়।

Comments
Loading...