১৪ মে এক দফায় পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণা রাজ্যের, মেনে নিল কমিশন। ফের মামলার পথে বিরোধীরা

পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে এবার সংঘাতে রাজ্য সরকার এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তিন দিন ধরে আলোচনায় কোনও সমাধান সূত্র না মেলায়, বৃহস্পতিবার নবান্ন এক তরফাভাবে আগামী ১৪ মে এক দফায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। সেই বার্তা ফ্যাক্স করে সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফল ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে ১৬ মে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন তাতে সম্মতি দেয় কিনা তার ওপরই নির্ভর করছে পঞ্চায়েত ভোটের ভবিষ্যৎ।
২০১৩ সালেও পঞ্চায়েত ভোটের সময় সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংঘাত চরমে উঠেছিল। কত দফায় ভোট হবে, কত বাহিনী থাকবে তা নিয়ে ঐক্যমত্য না হওয়ায় ২০১৩ সালে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডে হাইকোর্টে মামলাও করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পাঁচ দফায় পঞ্চায়েত ভোট হয়েছিল। এবার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন ১, ৩ এবং ৫ মে পঞ্চায়েত ভোটের দিন ঘোষণা করেছিল। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করের নানা ইস্যুতে বিরোধীরা মামলা করে কলকাতা হাইকোর্টে। যার জেরে পূর্ব ঘোষিত দিনে পঞ্চায়েত ভোট ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে। পঞ্চায়েত ভোটের পরিবর্তিত দিনক্ষণ ঠিক করতে ফের আলোচনায় বসে নবান্ন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, রাজ্য বারবারই চাইছিল, এক দফায় পঞ্চায়েত ভোট শেষ করতে। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, যে সংখ্যক পুলিশ রাজ্যে রয়েছে তাতে এক দফায় ভোট পরিচালনা করা অসম্ভব। ১৪ মে এক দফায় পঞ্চায়েত ভোটের যে ঘোষণা সরকার করেছে, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরেই মিটিংয়ে বসেছেন নির্বাচন কমিশনের অফিসাররা। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশন নবান্নের কথা মেনে ১৪ মে ভোটের সূচি জানালেও বিরোধীরা তা মানবে না। নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ দেখে বিরোধীরা ফের আদালাতে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন। সব মিলে ফের অনিশ্চিত হয়ে গেল পঞ্চায়েত ভোট

সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রস্তাব মেনে ১৪ মে ভোটের বিজ্ঞপ্তি করে করে কমিশন, তবে গণনার জন্য ১৭ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।

Comments
Loading...