ভারত-চিন উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দেশে চলছে বয়কট চায়না আন্দোলন। চিন নির্ভরতা কমাতে সরকারি স্তরেও একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে মোদী সরকার। আইপিএলের মূল স্পনসরশিপ থেকে চিনা সংস্থা ভিভো পিছিয়ে যাওয়ায়, নতুন করে টাইটেল স্পনসর খুঁজতে হচ্ছে সৌরভ গাঙ্গুলি, জয় শাহদের। এই পরিস্থিতিতে আইপিএলের টাইটেল স্পনসর হতে দৌড়ে সামিল হল রামদেবের পতঞ্জলি।

ভারত-চিন দ্বৈরথের জেরে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) স্পনসর করা থেকে পিছিয়ে গিয়েছে চিনা মোবাইল সংস্থা ভিভো। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এখন আইপিএলের জন্য নতুন টাইটেল স্পনসর খুঁজছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে চায় পতঞ্জলি। যোগগুরু বাবা রামদেবের প্রতিষ্ঠান চাইছে আইপিএলের টাইটেল স্পনসর হতে। রিলায়েন্স জিও, অ্যামাজন, টাটা গ্রুপ, আদানি গ্রুপ, ড্রিম ১১, বাইজুসের মতো সংস্থার সঙ্গে নিলামে অংশ নিতে চায় তারাও।

পতঞ্জলির মুখপাত্র এস কে তিজারাওয়ালা ইকনমিক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পতঞ্জলি ব্র্যান্ডের বিশ্বব্যাপী বাজার সৃষ্টি করতে চাই। এ কারণে বিসিসিআইয়ের কাছে সরাসরি প্রস্তাব দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানিয়েছেন তিজারাওয়ালা।

বিশ্লেষকদের মতে, বয়কট চায়নার চাপে ভিভোকে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে, এই অবস্থায় পতঞ্জলি আইপিএল স্পনসর হলে তা হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কারণ পতঞ্জলি দাবি করে তাদের সমস্ত পণ্যই স্বদেশী। ফলে রামদেবের সংস্থা আইপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্টের স্পনসর হতে পারলে বড় বার্তা দেবে।

ব্র্যান্ড বিশ্লেষক হরিশ বিজরের মতে, পতঞ্জলিকে স্পনসর বাছলে আইপিএল বা বিসিসিআইয়ের খুব একটা লাভের আশা নেই। বরং লাভ হবে পতঞ্জলিরই। এখন চিন-বিরোধী জোয়ার চলছে দেশে, এই প্রেক্ষাপটে আইপিএলে পতঞ্জলির অন্তর্ভুক্তি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে তাদের পণ্য বিক্রিতে, মত হরিষ বিজরের।

২০১৮ সালে বার্ষিক ৪৪০ কোটির চুক্তিতে আইপিএলের টাইটেল স্পনসর হয়েছিল চিনা মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থা ভিভো। কিন্তু দেশে বেড়ে চলা বয়কট চায়না ঢেউয়ে, চাপে পড়ে আইপিএলের স্পনসরশিপ ছেড়েছে ভিভো। শূন্যস্থান পূরণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে একাধিক ভারতীয় সংস্থা।

করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর একটি স্পনসর খুঁজে নিয়ে পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতেও রাজি বোর্ড। সেখানেই চোখ রাখছে রামদেবের পতঞ্জলি।

টুথপেস্ট, মধু, ঘি, মাখন, বিস্কুট, নুডল থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন করে পতঞ্জলি। যদিও একাধিকবার তাদের পণ্যের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছুদিন আগেই কোভিড-১৯ নিরাময়ের ওষুধ আবিষ্কারের দাবি করে বিতর্কে জড়িয়ে ছিল রামদেবের পতঞ্জলি। এ জন্য মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার মুখেও পড়েছে তারা।

বিসিসিআইয়ের তরফে এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us

You may also like

Salman Khurshid in Delhi Riot
Assam Syllabus Change