জয় ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রাজীব-প্রবীরের, খেলা হবে বলছে তৃণমূল, ডোমজুড়-উত্তরপাড়ায় প্রেস্টিজ ফাইট

রাত পোহালেই রাজ্যে ৪৪ টি আসনে চতুর্থ দফার ভোট। চতুর্থ দফায় সব থেকে আলোচিত দুটি কেন্দ্র হাওড়ার ডোমজুড় এবং হুগলির উত্তরপাড়া।

ডোমজুড়ের বিজেপি প্রার্থী রাজ্যের তৎকালীন ওজনদার তৃণমূল নেতা রাজীব ব্যানার্জি। উত্তরপাড়ার বিজেপি প্রার্থীও ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন। দু’জনকেই তাঁদের পুরোনো কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির।
রাজ্য রাজনীতির খবর রাখেন এরকম ব্যক্তি মাত্রই জানেন রাজীব ব্যানার্জি, প্রবীর ঘোষাল একসময়ে তৃণমূল নেত্রীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। সেদিক থেকে এই দুই কেন্দ্রই দুই পক্ষের কাছেই কার্যত প্রেস্টিজ ফাইট।
২০১১ সালে তৃণমূলের টিকিটে ডোমজুড় থেকে জিতে বিধানসভায় যান রাজীব ব্যানার্জি। তবে, ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের ফলাফল রাজীব ব্যানার্জির রাজনৈতিক কেরিয়ারকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। এক লাখেরও কিছু বেশি ব্যবধানে জেতেন তিনি। তৃণমূলের বিধায়কদের মধ্যে জয়ের ব্যবধানের নিরিখে ফার্স্ট বয়। সেচ দফতরের মত গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রিত্ব পান। এহেন রাজীবের সঙ্গে তৃণমূলের দুরুত্ব বাড়তে শুরু করে শুভেন্দু অধ্যায় চলাকালীন। অনেক টানাপোড়েনের পর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যান রাজীব।

বৃহস্পতিবার ডোমজুড়ের জনসভা থেকে প্রাক্তন সৈনিককে কার্যত তুলোধোনা করেন তৃণমূল নেত্রী। মমতা ব্যানার্জি বলেন, রাজীবের নামে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তাই তাঁকে সেচ দফতর থেকে সরিয়ে দিয়েছিলাম। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর চাঞ্চল্যকর দাবি, দুবাই থেকে শুরু করে কলকাতা, ডোমজুড়ের বিদায়ী বিধায়কের নামে, বেনামে বহু সম্পত্তি রয়েছে। রাজীব ব্যানার্জি পত্রপাঠ মমতার সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছেন।

২০১৬ সালে রেকর্ড ভোটে জিতলেও ৫ বছরের মধ্যে পরিস্থিতির অনেক বদল হয়েছে। এক সময় তৃণমূল সরকারের দাপুটে মন্ত্রীকে এখন লড়তে হচ্ছে তৃণমূলেরই বিরুদ্ধে। সেই লড়াইয়ে রাজীবের ইউএসপি এলাকায় নিজের ভাবমূর্তি। পাশাপাশি প্রশ্ন হল, তৃণমূলের শক্তিশালী সংগঠনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজীব পারবেন কি গেরুয়া চাষ করতে? ডোমজুড় আসন এখন তৃণমূল, বিজেপি দুই পক্ষের কাছেই সম্মানের লড়াই। তার উপর ভোটের আগেই মমতা ব্যানার্জি এলাকায় এসে বোমা ফাটিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীর নামে। তার কতটা প্রভাব পড়বে ইভিএমে? এই জটিল সমীকরণে গুরুত্ব পাচ্ছেন সংযুক্ত মোর্চা প্রার্থীও। সেক্ষেত্রে মোর্চা প্রার্থীর ভোট বাড়লে তা আখেরে কার খাতের ভোট, তা নিয়ে ঘাসফুল শিবিরের মতোই চিন্তায় পদ্ম ব্রিগেড। সব মিলিয়ে ভোটের উত্তাপে কাঁপছে ডোমজুড়।

অন্যদিকে ২০১৬ সালে সাংবাদিক প্রবীর ঘোষালকে উত্তরপাড়ার প্রার্থী করেন মমতা ব্যানার্জি। ৪৮% ভোট পেয়ে ২০১৬ সালে জয়লাভ করেন প্রবীর। যদিও ২০১১ সালে উত্তরপাড়া কেন্দ্রে তৃণমূল পেয়েছিল ৫৯% ভোট। অর্থাৎ এই কেন্দ্রে প্রবীরকে প্রার্থী করার পর তৃণমূলের ভোট কমেছিল ১১%। মাঝে ২০১৯ লোকসভা ভোটে রাজ্যে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি।

[আরও পড়ুন- মাও কবল থেকে মুক্তির আগে কোবরা কমান্ডোকে গণ আদালতে পেশ! কারা ছিলেন মধ্যস্থতাকারী?]

এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলে থেকে কাজ করতে পারছি না বলে জানিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন প্রবীর ঘোষাল। বিজেপি তাঁকেই উত্তরপাড়ার প্রার্থী করে। আর প্রবীরের ছেড়ে যাওয়া আসনে তৃণমূল প্রার্থী করে তারকা অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিককে।

তৃণমূলের লক্ষ্য ২০১১ সালের ভোট ফিরিয়ে আনা। অন্যদিকে বিজেপির প্রবীর ঘোষাল তাকিয়ে নিজের পুরনো ভোট ব্যাঙ্কের দিকে। এখানে হিসেবে রাখতে হচ্ছে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীকেও। কার ভোট কোন বাক্সে গেলে কার লাভ আর কার ক্ষতি, এখন দলগুলো ব্যস্ত সেই জটিল সমীকরণের সমাধানে। এখন দেখার উত্তরপাড়ার মানুষ জোড়া ফুলেই তাঁদের ভরসা রাখছেন নাকি নতুন দলের পুরোনো প্রার্থীকেই আবার জয়ী করে বিধানসভায় পাঠাচ্ছেন।

Comments
Loading...