বিপন্ন সাপের জীবন রক্ষায় কাজ করছেন নদীয়ার স্বরূপ।

নদীয়ার পায়রাডাঙার স্বরূপ মুখোপাধ্যায়, মধ্য কুড়ির এই যুবক এখন নদীয়া জেলা জুড়ে বিষধর সাপের অন্যতম পরিত্রাতা। স্বরূপ জানালেন, আয়লার পরে উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদীয়াতে বিষধর সাপের কামড়ে অনেকে প্রাণ হারান। সেই থেকে বিষধর সাপ দেখলেই তাকে হত্যার প্রবণতা শুরু হয়। তখনই নদীয়ার এই যুবকের মনে হয়, লোকজন এভাবে মারতে থাকলে একদিন সাপের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে। এরপরই তাঁর সাপের পরিত্রাতা হয়ে ওঠার শুরু।

স্বরূপ জানালেন, তাঁর বাবা শঙ্কর মুখোপাধ্যায় নিজেও একজন সাপুড়ে। কিন্তু তাঁর বাবাকে ডাকা হয় সাপ মারতে। আর নদীয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এখন স্বরূপের ডাক পড়ে সাপ ধরতে। মেরে ফেলতে নয়। সাপ ধরে তিনি তা তুলে দেন বন দফতরের হাতে। তারপর সেই সাপ ছেড়ে দেওয়া হয় গভীর জঙ্গলে। স্বরূপ এখন অনায়াস দক্ষতায় ধরে ফেলতে পারেন কালাচ, গোখরো, চন্দ্রবোড়া। রাণাঘাট রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সামান্য কিছু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সাপ ধরার কাজ করে চলেছেন এই যুবক। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষকে বোঝাচ্ছেন, ঘরে সাপ দেখা গেলেই আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। বরং বন দফতরকে খবর দিন। সাপের বিষ থেকে তৈরি হওয়া ওষুধে বাঁচতে পারে অনেক জীবন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে এই যুবক ও তাঁর কিছু সহযোগী বোঝাচ্ছেন, কোনও ব্যক্তিকে সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁক নয়, সবার আগে নিয়ে যেতে হবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।

স্বরূপ জানালেন পশ্চিমবঙ্গে কালাচের কামড়ে মৃত্যুর হার সব থেকে বেশি। তবে একটু সচেতন হলেই বাঁচানো সম্ভব সাপে কাটা রোগীকে। সব সাপ বিষাক্ত বা অতি বিষাক্ত হয় না।  বিভিন্ন সময় গ্রামে গ্রামে ঘুরে সেই বিষয় নিয়েও মানুষকে সচেতন করেন ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করা এই তরুণ। সচেতনার অভাবে আজ জীব বৈচিত্র্য অনেকটাই বিপন্ন। বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীদের খাতায় নাম তুলেছে অনেক প্রাণী। ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপক সৈকত সরকার জানালেন, স্বরূপের মত শিক্ষিত যুবকরা সাপ বাঁচাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাপ ধরছেন, একটা বিকল্প পেশার দিশা দেখাচ্ছেন তাঁরা। কারণ, সাপের বিষ থেকেই অ্যান্টিভেনাম তৈরি হয়। সরকারের কাছে তাঁদের আবেদন, স্বরূপের মতো যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সাপের বিষ থেকে অ্যান্টিভেনাম তৈরি করা গেলে তা যেমন গ্রামাঞ্চলের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের দিশা দেবে, তেমনই অনেক ক্ষেত্রেই সাপে কাটা রোগীর জীবন বাঁচানোও সম্ভব হবে।

 

Comments
Loading...