ভীমা কোরেগাঁও-এলগার পরিষদ মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA’র ভূমিকার তীব্র নিন্দা করে বিবৃতি দিলেন সারা দেশের এক হাজার বিজ্ঞানী ও গবেষক। খোলা চিঠিতে দেশের ১,০৩৯ জন বিজ্ঞানী ও বিদ্বজ্জনের দাবি, ভীমা কোরেগাঁও মামলায় সঠিক তদন্তের বদলে দেশের সমাজকর্মী, আইনজীবী ও বিশিষ্টদের নিশানা করছে NIA।
এ পর্যন্ত ১৫ জন বিশিষ্ট মানুষ এই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। ধৃতদের মধ্যে সাম্প্রতিক নাম কবির কলা মঞ্চের জ্যোতি জাগতপ। এছাড়া মামলার তদন্তে NIA তলব করেছে কলকাতার এক অধ্যাপককেও।
এক হাজারের বেশি বিজ্ঞানী ও বিশিষ্টদের সই সম্বলিত এই বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মামলায় এ পর্যন্ত যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, এঁদের অধিকাংশই এলগার পরিষদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। সুতরাং সরকারপক্ষ এই মামলায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবে সে সম্ভাবনা প্রায় নেই। কিন্তু কঠোর ইউএপিএ আইনে যেভাবে ধৃতদের জামিন আটকে দেওয়া হচ্ছে তা দূর্ভাগ্যজনক, দাবি করা হয়েছে বিবৃতিতে।
আরও পড়ুন: নয়া সিদ্ধান্ত রেলের, স্টেশনে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে রেলের পক্ষ থেকে মিলবে চিকিৎসা পরিষেবা
বিজ্ঞানীদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার আবেদন জানাচ্ছি। তাছাড়া এলগার পরিষদ মামলায় যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের মুক্তি দেওয়া এবং পরিবর্তে ভীমা কোরেগাঁও হিংসার ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত ও বিচারের দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
ভবতোষ বনসল, কোয়েল দাস, সৈকত ঘোষ, সুগত রায়, উমঙ্গ ভাট, অ্যাশলে টেলিস, আশিস কোঠারি, জিশান আলি সৈয়দ, নিধি তলোয়ার, নবদীপ মাথুর, সমতা বিশ্বাসের মতো ১,০৩৯ জন বিজ্ঞানী ও গবেষকের সই রয়েছে বিবৃতিতে। তাঁদের কেউ বেঙ্গালুরুর আইআইএসসির গবেষক আবার কেউ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বা স্ট্যানফোর্ডের চেয়ার প্রোফেসর। তাঁরা সবাই এবার সরব হয়েছেন সমাজকর্মীদের মুক্তির দাবিতে।
২০১৮ সালে ভীমা কোরেগাঁও সংঘর্ষে মদত দেওয়া এবং জড়িত থাকার অভিযোগে কবি, সাহিত্যিক ভারাভারা রাও, মানবাধিকার কর্মী সুধা ভরদ্বাজ, সমাজকর্মী ভার্ণন গঞ্জালেস, অরুন ফেরেরা এবং গৌতম নওলাখা প্রমুখকে গ্রেফতার করে এনআইএ। সম্প্রতি কলকাতার পরিচিত সমাজসেবী এবং বিজ্ঞানী পার্থসারথি রায়কে এই মামলায় তলব করা হয়। কলকাতার অধ্যাপককে সমন জারির বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ মিছিল করে মানবাধিকার সংগঠন APDR। মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠনগুলির অভিযোগ, মাওবাদী তকমা দিয়ে ভিন্নমত পোষণকারীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক নীতি নিচ্ছে মোদী সরকার।
আরও পড়ুন: অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটেন? সেপ্টেম্বর থেকে মিলবে বিরাট সুবিধা, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর




