নরেন্দ্র মোদির জমানায় নজিরবিহীন আক্রমণের মুখে সংবাদমাধ্যম, প্রকাশ আন্তর্জাতিক সমীক্ষায়

ভারতীয় গণতন্ত্রে সাংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বর্তমান ভারতে ঠিক কতটা করুণ অবস্থায় রয়েছে তা উঠে এসেছে এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায়। আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘রিপোর্টারস উইথ আউট বর্ডার’ কর্তৃক প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ শীর্ষক এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নিরিখে বিশ্বের ১৮০ টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১৩৮ নম্বরে। যা ২০১৬ এর থেকেও দু-ধাপ নীচে। ভারতের ঠিক পরেই রয়েছে পাকিস্তান।
কিন্তু ভারতের মতো একটি স্বাধীন-গণতান্ত্রিক দেশে সংবাদমাধ্যমের এমন দশা কেন? রিপোর্টে সাংবাদিক গৌরি লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মোদি জমানায় নজিরবিহীন আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে ভারতের সংবাদমাধ্যমকে। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে, সোস্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ এবং বদনাম করা হচ্ছে সাংবাদিকদের। রিপোর্টে বলা হয়েছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা দেশবিরোধী তকমা দিয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের উপর সেন্সরশিপ চাপানোর চেষ্টা করছে। সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, শারীরিক নিগ্রহ করা হচ্ছে। রিপোর্টে ২০১৭ সালে গৌরি লঙ্কেশসহ ভারতে খুন হওয়া তিনজন সাংবাদিকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এতদিন, মোদি জমানায় সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে নিজেদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে আসছিল বিরোধীরা। উঠছিল সরকার বিরোধী কথা বললেই কন্ঠরোধ করার অভিযোগ। নোবেল জয়ী অর্থনিতীবিদ অমর্ত্য সেন থেকে ঐতিহাসিক ইরফান হাবিব, এবিষয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। এবার আন্তর্জাতিক সমীক্ষাতেও উঠে এল সেই একই তথ্য। বিশ্বের ১৮০টি দেশকে নিয়ে করা এই সমীক্ষায় প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নিরিখে জামাইকা, ঘানা, হাইতি, টোগো, ফিজির মতো দেশগুলিও ভারতের থেকে ভালো অবস্থায় রয়েছে। প্রথম স্থানে রয়েছে নরওয়ে এবং সর্বশেষ স্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া।

Comments
Loading...