কয়েক দিনে দফায় দফায় গান্ধী পরিবার সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নৃতত্বের সঙ্গে ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের বৈঠক ঘিরে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের দাবি, ২০২৪ কংগ্রেসের হয়ে দেশজুড়ে ভোট কৌশল ঠিক করবেন পিকে। দলের সুপ্রিমো সোনিয়া গান্ধী নিজে একথা জানিয়েছেন। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, পেশাদার ভোট কুশলী কি সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দেবেন? একটি সর্ব ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের দাবি, প্রশান্ত কিশোরকে দল যোগ দেওয়ার জন্য ‘আকর্ষণীয় অফার’ দিয়েছেন খোদ সোনিয়া গান্ধী। কিন্তু সোনিয়া গান্ধীর অফারের প্রেক্ষিতে পিকে কী বলছেন?
ওই সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, কংগ্রেসে সরাসরি যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে এখনও কিছুটা সময় চান পিকে। জানা গিয়েছে, কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি সহ দেশের বাকি অবিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান প্রশান্ত। কেন? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কংগ্রেসের সঙ্গে আগের বৈঠকগুলোতে পিকে জানিয়ে ছিলেন, হাত শিবিরের আপাতত উচিত ৩৭০ টি লোকসভা কেন্দ্র নিয়ে চিন্তা করা। বাকি কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূল সহ বাকি বিজেপি বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোট তৈরি করে লড়াই করা। পিকে চাইছেন, কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আগে মমতা, এমকে স্ট্যালিন, জগন মোহন রেড্ডি, উদ্ধব ঠাকরে, কে চন্দ্রশেখর রাও প্রমুখ অ-বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে। কারণ, কমপক্ষে ১০০ টি লোকসভা কেন্দ্রের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মমতা ব্যানার্জি সহ এই রাজনীতিকদের। পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা ব্যানার্জির মতো দেশের বিজেপি বিরোধী মুখদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই কংগ্রেসে যোগ দিতে চান পিকে। যাতে ২০২৪-এ সেরকম কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে এই ১০০ টি সিট নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নিতে পারে।
উল্লেখ্য একুশের নির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়ে দেশজুড়ে পদ্ম বিরোধী লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেই মতো কংগ্রেস সহ বিরোধীদের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে হাত শিবিরের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরলেও ২৪-এর আগে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয় কিনা এখন সেটাই দেখার।
আরও পড়ুন: বাবুলের যাওয়া রুখতে এবার আসরে শাহ? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জল্পনা


