সমকামিতা অবৈধ নয়, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

সমকামিতা কোনও অপরাধ নয়। এটা ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন। ৩৭৭ ধারা বাতিল করে এক ঐতিহাসিক রায়ে বৃহস্পতিবার একথা জানাল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি এদিন ২০১৩ সালেরই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সম্পূর্ণ বিপরীত রায় দিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। এদিন রায়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র জানান, ব্রিটিশ আমলের এই ৩৩৭ ধারা পুরোপুরি অযৌক্তিক। তাকে বিদায় জানানোর সময় এসেছে। সময় এসেছে সংস্কার ত্যাগ করার।
ভারত নাট্যম শিল্পী নভত্যেজ সিংহ জোহার, সাংবাদিক সুনীল মেহরা এবং তিন শিল্পপতি রিতু ডালমিয়া, আমন নাথ এবং আয়েষা কাপুর এই ৩৭৭ ধারা বাতিলের জন্য মামলা করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সমকামিতা যে কোনও ব্যক্তির স্বাধীনতার প্রশ্ন। রাষ্ট্র তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এরপরই দেশে সমকামিতা গ্রাহ্য হবে কিনা তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, সমকামিতা অপরাধ। তারপর ফের মামলা হয়। এদিন সেই মামলাতেই ঐতিহাসিক রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, সমকামিতা বৈধ এবং তা কারও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন।

এদিনের রায়ে জয় হল দীর্ঘদিনের আন্দোলনের, আইনি লড়াইয়ের। এদিনের রায়ে স্পষ্টভাবে বিচারপতিরা বলেছেন, সমকামিতাকে কোনওভাবেই অপরাধের তকমা দেওয়া যায় না। শীর্ষ আদালত এদিন জানিয়েছে, প্রতিটি মানুষের মতো এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মানুষের সমানাধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে এদিন প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, পরিচিতি মানুষের অস্বস্তিত্বের মূল, তা কেড়ে নেওয়া যায় না। বিচারপতি জে নরিম্যান এদিন রায় ঘোষণার সময় বলেন, সমকামিতা কোনওভাবেই মানসিক বিকৃতি না, দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছায় যৌনতায় মিলিত হলে, তা অপরাধ হতে পারে না। তাই ১৫৭ বছরের পুরনো আইন ও এই ৩৭৭ ধারা শোধরানো প্রয়োজন। এদিন এই পাঁচ সদস্যের বেঞ্চের একমাত্র মহিলা বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা বলেন, এই আইনের ফলে যে সকল মানুষের এতদিন ধরে অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, ইতিহাস আজ তাঁদের সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
এদিনের রায় উচ্ছসিত এই আন্দোলনের সঙ্গে এতদিন ধরে জড়িত মানুষেরা। রাজ্যের ট্রান্স জেন্ডার বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য রঞ্জিতা সিনহা জানিয়েছেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার ৭১ বছর পর আমরা আজ আর এক স্বাধীনতা পেলাম। এই রায় মানুষের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। এটা বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন ছিল, তাই সুপ্রিম কোর্টের এই রায় শুধু আন্দোলনকারী বা এলজিবিটি সম্প্রদায়ের জয় নয়, মানুষের জয়।’

Comments
Loading...