বৃহস্পতিবার শেষ হল সিপিএমের দু’দিনের রাজ্য কমিটির মিটিং। মিটিংয়ের মূল অ্যাজেন্ডা ছিল পঞ্চায়েত ভোটের মূল্যায়ন। যেখানে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ করলেন অধিকাংশ নেতা। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত ভোটে সিপিএমের এই ভরাডুবির পেছনে বিরোধী দল হিসেবে বিজেপির উঠে আসাকেও দায়ী করেন অনেকে। পঞ্চায়েত ভোটে সিপিএমের বিপর্যয় নিয়ে thebengalstory.com এ মুখ খুললেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, পশ্চিম মেদিনীপুর সিপিএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা সুশান্ত ঘোষ। নিশানা করলেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে।
প্রশ্নঃ ৩৪ বছর সরকার চালিয়ে সিপিএম আজ পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যে কার্যত চতুর্থ দল। তৃণমূল, বিজেপি এমনকী নির্দলও সিপিএমের থেকে বেশি সিট জিতছে। কারণ কী?
সুশান্ত ঘোষঃ সন্ত্রাস একটা কারণ, কিন্তু একমাত্র কারণ নয়। সাংঠনিক দুর্বলতা অন্যতম বড় কারণ। পাশাপাশি নিচুতলার কর্মীদের ভরসা দেওয়ার মতো নেতৃত্ব না থাকা একটা বড় কারণ এই এই ফলের জন্য। কর্মীরা নেতাদের দেখে ভরসা পাচ্ছেন না। তাই তাঁরা ভোটে লড়তে ভয় পাচ্ছেন। কর্মীরা বুঝতে পারছেন না, ভোটে লড়তে গিয়ে সমস্যায় পড়লে, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হলে নেতারা পাশে দাঁড়াবেন কিনা।
আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে বিজেপিতে ফের ভাঙন, আলিপুরদুয়ারে প্রধান সহ ১৪ জন নেতাকর্মী যোগ দিলেন তৃণমূলে
প্রশ্নঃ কিন্তু নেতৃত্বের এই দুবলতা হচ্ছে কেন? এই নেতারাই তো এত বছর সরকার চালিয়েছেন…
সুশান্ত ঘোষঃ এখন বোঝা যাচ্ছে সংগঠন গড়ে উঠেছিল সরকারকে অবলম্বন করে। ভাল পরিবেশে নেতৃত্ব গড়ে উঠেছিল। খারাপ পরিস্থিতিতে লড়াই করার মতো অভিজ্ঞতা এখনকার নেতাদের মধ্যে অনেকেরই নেই। যাঁদের আছে অনেক ক্ষেত্রেই কারও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কারণে তাঁদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: মুকুল রায়ের স্ত্রী বিয়োগ, বাড়ি গিয়ে সমবেদনা মমতা, অভিষেক ব্যানার্জির
প্রশ্নঃ তার মানে আপনি বলছেন, সরকার চলে যাওয়ার এতদিন পরে এখনও সিপিএম নেতা হওয়ার জন্য কারও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ গুরুত্বপূর্ণ?
সুশান্ত ঘোষঃ অবশ্যই। কারও পছন্দ-অপছন্দের নিরিখে নেতা হওয়ার সিস্টেম এখনও পার্টিতে চলছে। কিন্তু আমি যেহেতু সংগঠনের মধ্যে আছি, আমার পক্ষে এর বেশি কিছু বলা সমীচীন নয়।
প্রশ্নঃ এবার পঞ্চায়েত ভোটে যা রেজাল্ট হয়েছে, সামনের লোকসভা ভোটেও তো চরম দুরাবস্থা অপেক্ষা করছে। এখান থেকে পার্টির বেরনোর রাস্তা কী?
সুশান্ত ঘোষঃ সংগঠেনের সমগ্র স্তরে দুর্বলতা, ভুল নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে এবং সংশোধন করতে হবে। আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে যান্ত্রিক বা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কী করবেন, কী করবেন না’, এমন ১৫টা প্রশ্নমালা তৈরি করে জেলায় জেলায় পাঠিয়ে সংগঠন দাঁড় করানো যাবে না।
প্রশ্নঃ আজকের পরিস্থিতে এই কাজ এই নেতৃত্বকে দিয়ে হবে বলে মনে করেন?
সুশান্ত ঘোষঃ দেখুন, আদর্শই যেহেতু দলের মূল ভিত্তি, আমি আশা করি, আজ না হলে কাল হবে। কাল না হলে পরশু।
Leave a Reply