কখনও রাজ্যের বাংলা নামের বিরোধিতা করে কেন্দ্রের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দরবার, আবার কখনও জয় বাংলা স্লোগানকে বেনজির আক্রমণ। এতদিন পর্যন্ত বিভিন্ন বিতর্কিত রাজনৈতিক মন্তব্য করেও নিজের অবস্থানে অনড়ই ছিলেন তথাগত রায়। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন তিনি প্রাক্তন বিজেপি নেতা ও মেঘালয়ের রাজ্যপাল।
চলছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতবর্ষ উদযাপন। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, প্রাক্তনীদের সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি একগুচ্ছ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে ময়দানের এই ক্লাবের। বাংলার ফুটবলের অন্যতম নাম ইস্টবেঙ্গলের সদস্য সমর্থক ছড়িয়ে রয়েছেন বিশ্বজুড়ে। ক্লাবের শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানও তাই শুধু কলকাতা কেন্দ্রিক নয়। ক্লাবের শতবর্ষ পূর্তিতে যখন আবেগের সুনামিতে ভাসছে লাল-হলুদ জনতা, ঠিক তখনই এ বিষয়ে ট্যুইট করেন তথাগত রায়। ট্যুইটের বক্তব্য, ‘শতবর্ষ তো পালন হচ্ছে, কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের ক্লাব কর্তারা কিংবা সমর্থকেরা কি একবারও ভেবে দেখেছেন, পশ্চিমবঙ্গে থেকে কীভাবে পূর্ববঙ্গ বা ইস্টবেঙ্গলের নামে জয়ধ্বনি দেওয়া যায়?’

এরপরেই শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। ইস্টবেঙ্গল তো বটেই, তথাগত রায়ের এমন কুরুচিকর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ আসে মোহনবাগান ক্লাবের সমর্থকদের কাছ থেকেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের তীব্র আক্রমণের মুখে নাজেহাল তথাগত রণে ভঙ্গ দিয়ে ক্ষমা চেয়ে করেন আরও একটি ট্যুইট। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে প্রাক্তন বিজেপি নেতা তথাগত রায় বলেন, ট্যুইটের উদ্দেশ্য ভুল বুঝেছেন প্রচুর ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। এমনকী সেই ট্যুইটে তথাগত রায়কে দুঃখ প্রকাশ করে লিখতে হয়, তিনিও আবাল্য ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। যদিও রাজ্যপালের এই ট্যুইটেও বিতর্ক থামেনি।

খেলার মাঠে সরাসরি রাজনীতি ঢোকানোর অপচেষ্টাকে যে কোনও মূল্যে প্রতিহত করা হবে বলে বলছেন ময়দানের ফুটবলপ্রেমীরা।
সম্প্রতি বাংলার ফুটবলের উন্নতিসাধনে দুই প্রধানের একাধিক কর্তা আর্জি জানিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র কাছে। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানকে বাদ দিয়ে যে দেশের ফুটবলের উন্নতি করা যাবে না, কৈলাস বিজয়বর্গীয় নিজে জানিয়েছেন সে কথা। এই প্রেক্ষিতে ময়দানে গুঞ্জন, তাহলে বিজেপি কি ময়দানি রাজনীতিতেও এবার হাত পাকানোর চেষ্টা করছে? কিন্তু রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের কুরুচিকর ট্যুইট বিজেপির সেই দৌত্যতেই জল ঢালল বলে মনে করছেন ময়দানি রাজনীতির কুশীলবরা।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us