সামনে পঞ্চায়েত ভোট, সোমবার থেকে তৃণমূলের সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার

লোকসভা, বিধানসভা ভোটে একাই কালচিনি থেকে ক্যানিং দৌড়ে বেড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনই হোক বা ২৯৪টি বিধানসভা আসন, সর্বত্রই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী একজনই। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে থাকেন না তৃণমূল নেত্রী। শেষ পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে জেলায় জেলায় ঘুরে বেড়িয়েছেন ২০০৮ সালে। তখন তিনি বিরোধী নেত্রী। ২০১৩ সালের মতোই ২০১৮ পঞ্চায়েত ভোটেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন দলের বাকি নেতাদের হাতে। আর তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্ব এবার প্রচারে নিয়ে এসেছেন নতুন মডেল। যে মডেল শুরু হতে চলেছে সোমবার, ৩০ এপ্রিল থেকে। গ্রামে গ্রামে প্রচারের পাশাপাশি এবার তৃণমূলের প্রচারে মূল জোর দেওয়া হয়েছে সোস্যাল মিডিয়ায়।
বর্তমান স্যোসাল মিডিয়া, স্মার্ট ফোনের যুগে প্রচারে অভিনবত্ব এনে মানুষের কাছে পৌঁছতে চাইছে সব দল। ফেসবুক, ট্যুইটার হয়ে উঠছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারের মূল হাতিয়ার। এবার পঞ্চায়েত ভোটে সেই দিকে নজর দিল তৃণমূল কংগ্রেসও। নানা জটিলতা, মামলা-মকদ্দমা পেরিয়ে গত সপ্তাহে ঘোষিত হয়েছে রাজ্য পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ। ১৪ মে এক দফায় রাজ্যে ত্রি-স্তরীয় পঞ্চায়েত ভোট হওয়ার কথা। আর গত শুক্রবার থেকেই ফেসবুক, ট্যুইটারের অভিনব প্রচার শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।
তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ট্যুইটার পেজ খুললেই চোখে পড়েছে একটি পোস্ট। ‘পাঁচটায় পঞ্চায়েত’ শীর্ষক এই পোস্টে রোজ বিকাল পাঁচটায় তৃণমূল কংগ্রেসের ফেসবুক পেজে ফেসবুক লাইভে চোখ রাখতে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল থেকে শুরু হবে এই ‘পাঁচটায় পঞ্চায়েত’ নামক অনুষ্ঠান।
শুধু প্রচারের অভিনবত্ব নয়, রাজ্যের জেলাগুলিতে তৃণমূল সরকারের আমলে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তাও ফেসবুক, ট্যুইটারের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেসের ডিজিটাল সেল। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই জেলাওয়াড়ি উন্নয়নের খতিয়ান দেওয়া হয়েছে দলের ফেসবুক ও ট্যুইটার পেজে। সঙ্গে রয়েছে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাজের হিসেবও। প্রচারের অঙ্গ হিসাবে সামনে এসেছে তৃণমূলের নয়া গানও। দলের এক নেতার বক্তব্য, বিরোধীরা সোস্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে অনবরত অপপ্রচার করছে। তার মোকাবিলা করতেই এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে ফেসবুক লাইভ করার কথা ভাবা হয়েছে।

Comments
Loading...