আদিবাসীদের টানা আন্দোলনের চাপে পড়ে বায়লাডিলা এলাকায় আদানিদের খনি প্রকল্প স্থগিতের ঘোষণা করেছিল ছত্তিসগঢ়ের কংগ্রেস সরকার। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সরকারের আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারেননি। তাদের দাবি, গ্রামসভার সম্মতিপত্র নিয়ে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত করা না হলে, ফের আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। সরকারকে তদন্ত শেষ করতে ১৫ দিন সময় দিয়েছেন আদিবাসীরা।
সাত দিন ধরে ঘেরাও অবস্থান চলার পর, আপাতত আদানি গোষ্ঠীর প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন স্থগিত করলেন আদিবাসীরা। তবে ছত্তিসগঢ় সরকারকে ১৫ দিনের মধ্যে আদানিদের খনি প্রকল্প সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা এবং গ্রাম সভার সম্মতি নিয়ে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত করার দাবি পূরণ না হলে, ফের আন্দোলনের পথে ফিরতে বাধ্য হবেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সকালে একথা জানান, ছত্তিসগঢ় বাঁচাও আন্দোলনের নেতা অলোক শুক্লা।

আরও পড়ুন: আমেরিকায় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হেলায় ছেড়ে বৃন্দাবনে জৈব চাষ গায়ত্রীর, ‘সোনা’ ফলাচ্ছেন ১০ একর জমিতে
এদিকে বুধবার সন্ধে থেকেই আন্দোলনস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল রাজ্য সরকার। গোটা প্রকল্প এলাকা ঘিরে ফেলেছিলেন সশস্ত্র নিরাপত্তা কর্মীরা। যদিও এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্দোলনে যোগ দিতে থাকেন আরও বহু মানুষ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দান্তেওয়াড়ার পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে দলে দলে আসতে শুরু করেন আদিবাসী মানুষ। কারও হাতে লাল ঝাণ্ডা, আবার তির-ধনুক কাঁধে কারও মুখে প্রতিরোধের গান। প্রথাগত বাদ্যযন্ত্র বাজাতে বাজাতে, গান গাইতে গাইতে আদিবাসী মানুষেরা আন্দোলনে যোগ দেন, তাঁদের দাবি, সম্পূর্ণভাবে বাতিল করতে হবে এই পরিবেশ নিধনের মহাযজ্ঞ।
সংযুক্ত পঞ্চায়েত জন সংঘর্ষ সমিতি নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে ঠিক করেছে, ভূপেশ বাঘেল সরকারকে প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে বাতিল করতে হবে, পাশাপাশি গ্রাম সভার সম্মতি নিয়ে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত করতে হবে। ১১ তারিখ ছত্তিসগঢ়ের রাজধানী রায়পুরে আদানিদের প্রকল্প বন্ধের ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। পাশাপাশি জানিয়েছিল, নির্বিচার অরণ্য নিধন এবং গ্রামসভার সম্মতিপত্র নিয়ে অভিযোগের তদন্ত হবে। তারপর নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করেন আন্দোলনের নেতৃত্ব। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সাময়িকভাবে আন্দোলন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, ১৫ দিনের মধ্যে সরকারকে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে। না হলে ফের আন্দোলনে নামবেন আদিবাসীরা।

আরও পড়ুন: সরকারের সমালোচনা করে মন্তব্য বারণ, খড়গপুর আইআইটিতে শিক্ষকদের জন্য ফরমান কর্তৃপক্ষের
ছত্তিসগঢ় বাঁচাও আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক অলোক শুক্ল thebengalstory কে জানিয়েছেন, আদিবাসীদের এই আন্দোলন মূলত পাহাড় বাঁচাতে। বায়লাডিলা পাহাড়ের একটি অংশকে আদিবাসীরা দেবতা রূপে পুজো করেন। এ ছাড়াও পাহাড়জুড়ে থাকা সবুজের সমারোহকে রক্ষা করতেও আদিবাসীরা জান কবুল করতে রাজি, বলছেন অলোক শুক্ল। তাই ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করে এই আন্দোলন ভাঙা যাবে বলে যদি সরকার ভাবে, তাহলে বলব ভুল ভাবছেন।
আপাতত বাড়ির পথে পাহাড় বাঁচানোর আন্দোলনে নামা আদিবাসীরা। তবে তাঁরা জানেন, সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করলে ফের আন্দোলনে নামতে হবে। সরকার প্রতিশ্রুতি দেয়, পালন করে না, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছেন তাঁরা। কিন্তু এবার আন্দোলন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার। তাই প্রাণ গেলেও, দাবি ছাড়বেন না, এমনটাই বলছেন প্রতিরোধের গান গাইতে গাইতে বাড়ির পথে চলা হাজার হাজার আদিবাসী মানুষ।
