সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরে দেশে বেকারত্ব বেড়ে ৭.৫ শতাংশ, বিপুল বৃদ্ধি শিক্ষিত বেকারের সংখ্যায়, ভয়াবহ তথ্য সমীক্ষা রিপোর্টে

দেশে লাফিয়ে বাড়ছে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের বেকারত্বের হার। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমি (সিএমআইই) প্রকাশিত সমীক্ষা রিপোর্টে বুধবার জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর, এই চার মাসে শিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৫ শতাংশ।

কেন্দ্রের জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর (এনএসও) জানিয়েছিল, নোটবন্দির পর ২০১৭ সালে দেশে বেকারির হার ছিল ৬.১ শতাংশ। তাদের বক্তব্য ছিল, গত ৪০ বছরে এটাই বেকারির সর্বোচ্চ হার।

সম্প্রতি রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) রিপোর্ট বলেছে, গোটা পৃথিবীতে অর্থনীতি ঝিমিয়ে রয়েছে। কাজ করতে সক্ষম কিন্তু বেকার, এরকম শিক্ষিত ছেলে-মেয়ের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু সেই পরিমাণে কাজের পরিধি বাড়ছে না। আইএলও-র অনুমান, এই বছরে সারা বিশ্বে বেকারত্ব বাড়বে প্রায় ২৫ লক্ষ।

সিএমআইই-র রিপোর্ট বলছে, দেশে স্নাতকদের বেকারির হার ৬০ শতাংশ। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারির হার ৪৫ শতাংশ, ২০ থেকে ২৪ বছরের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে এই হার ৩৭ শতাংশ, আর শহরে বেকারির হার বেড়ে হয়েছে ৪৪ শতাংশ। ওই সংস্থার পর্যবেক্ষণ, গত চার বছর ধরেই ধারাবাহিক ভাবে বেকারত্বের হার বাড়ছে। ২০১৬ সালে ২০ থেকে ২৪ বছরের স্নাতকদের বেকারির হার ছিল ৪৭.১%, ২০১৭ সালে তা একটু কমে হয় ৪২%, ২০১৮ সালে তা হয় ৫৫.১% এবং ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০%।
বেকারত্বের সমস্যার এই ভয়াবহ চিত্র সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এলেও কেন্দ্রীয় সরকার তা নানা ভাবে গোপন করার চেষ্টা করেছে। অভিযোগ, কারচুপি করে বেকারির হার কমিয়ে দেখানো হয়েছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, মোদী সরকার নিজেদের মন্ত্রকের রিপোর্টকে মান্যতা না দিয়ে মানুষের ক্ষোভকে বিপথে চালিত করতে বিভাজনের রাজনীতিকে উস্কে দিয়েছে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, স্বাধীন ভারতে বেকারির এই ভয়াবহ চিত্র আগে কখনও দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর উচিত, সব বাদ দিয়ে নোকরি পে চর্চা শুরু করা। মোদীর এখন লক্ষ লক্ষ বেকার যুবকের মন কি বাত শোনা দরকার।
সিএমআইই-র রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, দেশে শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারির হার সব চেয়ে বেশি। এর প্রধান কারণ হল, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ অনেক কমে গিয়েছে। বেসরকারিকরণ, মন্দার জেরে একের পর এক শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়া, নতুন শিল্প না হওয়া ইত্যাদি কারণে নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না। নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না, বৃদ্ধির হার তলানিতে এসে ঠেকেছে।

Comments
Loading...