Take a fresh look at your lifestyle.

ডায়াবেটিস, স্থুলতা, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের করোনায় মৃত্যুহার ১০ গুণ বেশি, ভারতীয়দের জীবনযাত্রা পরিবর্তন করতে বলছেন ব্রিটেনের চিকিৎসক

155

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। আর এবার ভারতে করোনায় মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অপুষ্টিকর খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর জীবনধারাকেই দায়ী করলেন লন্ডনে কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভুত চিকিৎসক অসীম মালহোত্রা।

ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ফ্রন্টলাইন মেডিকসের অন্যতম সদস্য ডাক্তার অসীম মালহোত্রা জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ রোগে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ভারতে বাড়তে থাকা অপুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ মালহোত্রা জানিয়েছেন, শরীরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ প্রতিহত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রোসেসড খাবার বর্জন করতে হবে প্রথমেই। তিনি এও বলেন যে স্থুলতা ও অতিরিক্ত ওজনকে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন যে ভারত লাইফ স্টাইল ডিজিজ বা জীবনযাত্রা জনিত রোগের আঁতুড়ঘর এবং ভারতীয়দের মধ্যে এই সমস্ত রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবনতা প্রবল। ডঃ মলহোত্রা করোনা ভাইরাসকে ঠেকাতে জীবনযাত্রা পরিবর্তনের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভারতে লাইফস্টাইল ডিজিজের প্রাবল্যের কারণে ভারতীয়দের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা তীব্র। বিশেষত শরীরে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের মতো অসুস্থতাই করোনা আক্রমনে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

আমেরিকার মত দেশ, যেখানে কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে, সেখানেও এই ধরনের অনিয়মিত ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকেই করোনায় মৃত্যুর জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনি বলেন যে ব্রিটেন ও আমেরিকার মত উন্নত দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৬০ শতাংশের মধ্যেই স্থুলতা ও অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা দেখা যায়।

ডাক্তার মালহোত্রার মতে, স্বাস্থ্যকর ওজন বা স্বাস্থ্যবান মানুষ বলে কিছু হয় না। স্বাস্থ্যকর খাওয়া দাওয়া ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবং উচ্চ রক্তচাপ, স্থুলতা বা হৃদরোগের মত বিষয়গুলির দিকেও সর্বদা খেয়াল রাখা উচিত।

সম্প্রতি নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যাঁদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ, স্থুলতা, কোলেস্টেরলের সমস্যা আছে, তেমন করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুহার সাধারণের তুলনায় অন্তত দশগুণ বেশি।

Comments are closed.