ক্ষমতায় আসার আগেই দুটি বিষয় নিয়ে সরব ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনি অনুপ্রবেশকারী, রিফিউজিদের বসবাস অর্থনীতিতে কুপ্রভাব ফেলছে এবং বিদেশিরা সে দেশে চাকরি করছেন, ফলে চাকরির সুযোগ কমছে মার্কিনীদের। তিনি ক্ষমতায় এলে এই দুটি বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
অভিবাসন ও শরনার্থী, বেআইনি অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট কড়া অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর এবার তাদের লক্ষ্য বিদেশ থেকে মার্কিন মুলুকে কাজ করতে যাওয়া পেশাদারদের উপর। মনে করা হচ্ছে, ২০১৯ সালের গোড়ায় নয়া ভিসা আইন আনতে পারে আমেরিকা, সেখানে কোপ পড়তে পারে এইচ ৪ ভিসাধারীদের উপর। যার ফলে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে পারেন সে দেশে বসবাসকারী বহু ভারতীয়।
বিভিন্ন দেশ থেকে যাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে যান, মূলত তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে, তাঁদের এইচ ওয়ান বি ভিসা দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বারাক ওবামা ক্ষমতায় আসার পর এই সমস্ত বিদেশি চাকুরিজীবীদের পরিবারের জন্য এইচ ৪ ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। যাঁদের কাছে এইচ ওয়ান বি ভিসা আছে, তাঁদের নিকটতম পরিবারের সদস্য (স্ত্রী বা স্বামী এবং ২১ বছরের কম বয়সী সন্তান) এই এইচ ৪ ভিসার মাধ্যমে মার্কিন মুলুকে থাকার সুযোগ পেতেন। ট্রাম্প প্রশাসন এই এইচ ৪ ভিসার উপরই কোপ বসাতে চলেছে বলে খবর। যার ফলে বিপাকে পড়তে পারেন মার্কিন মুলুকে কর্মরত বহু বিদেশি ও তাঁদের পরিবার। যার বেশিরভাগই ভারতীয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যাণ্ডের তরফে আগেই জানানো হয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস বিভাগ এই সংক্রান্ত নয়া প্রস্তাব পেশ করবে। মনে করা হচ্ছে, প্রায় ৭০ হাজার বিদেশি কর্মীর উপর এর প্রভাব পড়বে। স্বাভাবিকভাবেই এই নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে ও সেদেশের তথ্য প্রযুক্তি সেক্টরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একলপ্তে এত দক্ষ বিদেশি কর্মী যদি নয়া নিয়মের জেরে কাজ ছাড়তে বাধ্য হন, তাহলে দেশের অর্থনীতি ও কর্পোরেট সেক্টরে এর খারাপ প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। এমন অনেকেই আছেন, যাঁদের স্বামী বা স্ত্রী এইচ ওয়ান বি ভিসা নিয়ে আমেরিকায় কাজ করেন বলে, তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী এইচ ৪ ভিসা পেয়ে সেখানে বসবাস করছেন এবং তাঁরাও সেখানে কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই ভিসার উপর কোনও নয়া নিয়ম আরোপিত হলে নিশ্চিতভাবে তাঁদের উপর এর প্রভাব পড়তে বাধ্য। নয়া আইন কী হবে তা নিয়ে আমেরিকার সাধারণ নাগরিকরাও মত দিতে পারবেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় ভ্যাকসিন হিসেবে আমেরিকায় অনুমোদন পেল ফার্মা জায়ান্ট মডার্না
