নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির পাশাপাশি আরও একটি বিষয় নিয়ে এই মুহূর্তে সরগরম দেশ, তা হল এনপিআর বা ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার। ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এনপিআর শুরু হবে বলে ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। আসুন এনপিআর নিয়ে জেনে নেওয়া যাক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

এনপিআর কী?
সাধারণভাবে দেশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের তালিকা। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন এবং ২০০৩ সালের সিটিজেনশিপ (রেজিস্ট্রেশন অফ সিটিজেনস অ্যান্ড ইস্যু অফ ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ডস) রুলস অনুযায়ী এই কাজ হয়।

সাধারণ মানুষ কারা?
ভারত সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি একটি স্থানে অন্তত ৬ মাস ধরে বাস করছেন এবং পরের ৬ মাসও সেখানেই থাকার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁরা দেশের সাধারণ মানুষ। এমন তো হতেই পারে, কোনও একজন বিদেশি ৬ মাস অথবা তার বেশি সময় ধরে একই জায়গায় আছেন এবং পরবর্তী ৬ মাসও সেখানেই থাকবেন। সেক্ষেত্রে এনপিআরে সেই বিদেশির নামও চলে আসবে। এখানেই এনআরসির সঙ্গে এনপিআরের মূল বৈশিষ্টগত পার্থক্য।

২০১০ সালের এনপিআরে কী তথ্য দিতে হয়েছিল সাধারণ মানুষকে?
১. নাম
২. পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক
৩. বাবার নাম
৪. মায়ের নাম
৫. স্ত্রী বা স্বামীর নাম (যদি বিবাহিত হন)
৬. লিঙ্গ
৭. জন্ম তারিখ
৮. ম্যারিটাল স্টেটাস
৯. জন্মের স্থান
১০. জাতি (ঘোষণা অনুযায়ী)
১১. সাধারণ বাসস্থানের বর্তমান ঠিকানা
১২. বর্তমান ঠিকানায় বসবাসের সময়
১৩. স্থায়ী ঠিকানা
১৪. পেশা
১৫. শিক্ষাগত যোগ্যতা

কী কী নথি দিতে হবে ২০২০ সালের এনপিআরের জন্য?
এনপিআরের জন্য মানুষকে কোনও নথি দেখাতে হবে না। এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, এনপিআরে দেওয়া তথ্য সেলফ অ্যাটেস্টেড। অর্থাৎ, যে তথ্য আপনি দিচ্ছেন তা সত্য বলে ধরে নেবে সরকার। প্রাথমিকভাবে কোনও বায়োমেট্রিক ডকুমেন্টস বা বায়োমেট্রিক তথ্য সমৃদ্ধ আধার অথবা ওই ধরনের নথি দেখাতে হবে না।

এবার এনপিআরে নতুন কী?
১. আধার কার্ডের নম্বর
২. মোবাইল নম্বর
৩. মা-বাবার জন্ম তারিখ এবং জন্মস্থান
৪. আগের বাড়ির ঠিকানা
৫. ভারত সরকারের ইস্যু করা পাসপোর্টের নম্বর
৬. ভোটার আই কার্ডের নম্বর
৭. প্যান কার্ড নম্বর
৮. গাড়ির লাইসেন্স নম্বর

কবে হবে এনপিআর, চলবে কতদিন?
এনপিআরের জন্য তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে ২০২০ সালের ১ এপ্রিল। সেপ্টেম্বরের মধ্যে তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করতে হবে। গত অগাস্টেই এবিষয়ে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করেছে কেন্দ্র। অসম বাদে দেশের প্রতিটি কোণে এনপিআর হবে। অসমে এনআরসি হয়ে যাওয়ায় এনপিরের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য মজুতই রয়েছে।

কেন এনপিআর করা হচ্ছে?
অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০০৩ সালে নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন করে। যে সংশোধনীর ফলে এনপিআরে তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। পরবর্তী জনগণনা বা সেনসাসের প্রথম ধাপের সঙ্গে সমান্তরালভাবে এই প্রক্রিয়াও চলবে। বাজপেয়ী আমলের সংশোধনীতে বলা ছিল, যারা অন্য দেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে নাগরিকত্ব আইন মেনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বৈধ নাগরিকত্ব নেননি, তাঁরা সবাই অনুপ্রবেশকারী। পাশাপাশি আরও বলা হয়, ভারত সরকার দেশে নাগরিকদের নথিভুক্তির জন্য তৈরি করবে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ ইন্ডিয়ান সিটিজেনস (এনআরআইসি) (ধারা ১৪এ)।
২০১০ সালে মনমোহন সিংহের ইউপিএ সরকার ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (এনপিআর) তৈরি করেছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ারে তখন ছিলেন পি চিদম্বরম। তাঁর মন্ত্রকের দেখভালেই তৈরি হয়েছিল এনপিআর। ২০১৫ সালে এনপিআর আপডেট করা হয়।

এখন বিতর্ক কেন?
২০১০ সালে এনপিআরে মানুষের কাছ থেকে ১৫ টি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু এবার ২০২০ এনপিআরের জন্য অতিরিক্ত ৮ টি তথ্য চাওয়া হবে। যার জন্য বিতর্কের সূত্রপাত।
বিরোধীদের অভিযোগ, এনপিআর হল এনআরসির মূল ভিত্তি। এনআরসিতে এনপিআরের তথ্যই কাজে লাগবে। সেখানে বাবা-মায়ের জন্ম তারিখ এবং জন্মস্থানের প্রমাণ দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়বেন অনেকেই। তাছাড়া এনপিআরে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রমাণের নিরিখেই বেছে নেওয়া হবে দেশের নাগরিক।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা শুরু করেছি সাবস্ক্রিপশন অফার। নিয়মিত আমাদের সমস্ত খবর এসএমএস এবং ই-মেইল এর মাধ্যমে পাওয়ার জন্য দয়া করে সাবস্ক্রাইব করুন। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us