আগে জ্বর, শুকনো কাশি, হাত-পা ব্যথাকেই করোনার প্রাথমিক উপসর্গ বলে সন্দেহ করা হত। তারপর ঘ্রাণ ও স্বাদ চলে যাওয়া, নিউরোলজিক্যাল সমস্যাও যুক্ত হয়েছে করোনার উপসর্গ হিসেবে। কিন্তু এমন অনেক কেস রয়েছে, যেখানে সংক্রমিত মানুষটির শরীরে কোনও উপসর্গই মেলেনি। অথচ টেস্ট করাতে দেখা গেল তিনি করোনা পজিটিভ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসর্গহীন বা Asymptomatic কোভিড রোগীর সংখ্যাই বেশি।

গবেষণা বলছে, এঁরা সেরে উঠছেন তাড়াতাড়ি। কিন্তু উপসর্গহীনতার কারণে রোগীরা নিজেদের অজান্তে অনেক বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন। আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনার একটি গবেষণা জানাচ্ছে, আরও একটি কারণে উপসর্গহীন করোনা রোগীরা স্বতন্ত্র। সেটা হল তাঁরা কোনওরকম শারীরিক যন্ত্রণা অনুভব করছেন না। অথচ অজান্তে তাঁদের শরীরে জাঁকিয়ে বসে আছে ভাইরাস।

কিন্তু এই রোগীদের কোনও উপসর্গ দেখা যায় না কেন?

আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা জানাচ্ছে, আসলে মানব শরীরে করোনা সংক্রমণের জন্য দায়ী যে SARS-COV-2 ভাইরাস তা মূলত কয়েকটি কোষকে প্রভাবিত করে। এমনকী কোষের ব্যথা উপশমও করে কিছু ক্ষেত্রে।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই ‘পেনলেস কোভিড’ এর একটা কারণ হতে পারে ভাইরাসের আক্রমণ পদ্ধতি। অনেক ক্ষেত্রে SARS-COV-2’র প্রোটিন স্পাইক শরীরের পেন রিসেপ্টর সেলের উপর ক্রিয়া করতে পারে। যার ফলে শরীরের ব্যথা অনুভূত হয় না। নিউরোপিলিন- ১ নামক রিসেপ্টরের সাহায্যে একটা উপায়ে করোনাভাইরাস শরীরে ঢুকতে পারে।

মজার বিষয় হল, প্রোটিন এবং প্যাথোজেন এই নির্দিষ্ট রিসেপ্টর সেল, নিউরোপিলিন- ১ এর সাথে যুক্ত। যারা ব্যথার প্রক্রিয়াকরণ এবং উপশমের সঙ্গে জড়িত। এবার করোনাভাইরাস যখন নির্দিষ্ট কোষের সাথে যুক্ত হয়, তখন এটি স্নায়ুর কাজকর্মে যুক্ত ভাস্কুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর এ বা ভিইজিএফ-এ’র কাজে আঘাত হানে। যার ফলে কোনও রোগ লক্ষণই প্রকাশ হয় না।

এখন মোট করোনা সংক্রমিতের মধ্যে প্রায় অর্ধেক উপসর্গহীন করোনা রোগী। শরীরে রোগের কোনও উপসর্গ নেই অথচ কীভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে তার একটা কারণ খুঁজছেন গবেষকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন বেশিরভাগ উপসর্গহীন সংক্রমণের অন্যতম কারণ হল pain suppression। অর্থাৎ, শরীরে এই মারণ ভাইরাস প্রদাহ সৃষ্টি করলেও তা চাপা থাকছে। অন্তত সংক্রমণের প্রথম পর্যায় পর্যন্ত এভাবে থাকছেন রোগীরা। তারপরও শরীরে কোনও অসুবিধা না দেখে রোগীরা বাইরে বেরোচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের থেকে সংক্রমিত হয়ে পড়ছেন আশেপাশের লোকেরা। তবে আর একটা ব্যাপারে গবেষকরা সাবধান থাকতে বলছেন। সেটা হল, এইরকম সংক্রমণের প্রথম দিকে রোগীর অজান্তেই ঘটে যেতে পারে শারীরিক সমস্যা। কিছুদিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হতে চলা এই মার্কিনি গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছে, COVID-19 এর চরম সংক্রমণের অন্যতম কারণ হ’ল, প্রাথমিক পর্যায়ে আপনি ভালোভাবেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যেন কোনও সমস্যা নেই। কারণ আপনার ব্যথা চাপা পড়ে আছে। আপনি ভাইরাসে আক্রান্ত, কিন্তু কোনও ব্যথা না থাকায় তা বুঝতে পারছেন না। এখান থেকে আমরা প্রমাণ করতে পারি যে, উপসর্গহীন রোগীদের ব্যথাহীন অবস্থা COVID-19 কে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বড়ো ভূমিকা নিয়েছে।

আমেরিকার CDC জানাচ্ছে, করোনার ৪০ শতাংশ ট্রান্সমিশন রিস্ক থাকে উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আগেই। তাই এই রোগীরা উপসর্গ প্রকাশের আগে অন্যদের সংক্রামিত করতে পারে নিজের অজান্তে।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us

You may also like