রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা একপ্রকার চূড়ান্ত করে ফেলেছে সিপিএম। কিন্তু এই দুই দলের আসন সমঝোতা হলে তা হবে ‘দুর্ভাগ্যজনক’, মন্তব্য করলেন সিপিআইএমএল (লিবারেশন) এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। গত ৩ রা ফেব্রুয়ারি বামেদের ব্রিগেড সমাবেশে বক্তা ছিলেন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। শুধু তাই নয়, বৃহত্তর বাম ঐক্যের লক্ষ্যে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে সিপিআইএমএল (লিবারেশন) কে একটি আসন ছাড়া হবে বলেও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে thebengalstory.com এ মুখ খুললেন সিপিআইএমএল (লিবারেশন) এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।

প্রশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে আপনারা বামেদের বামফ্রন্টের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। আপনি ব্রিগেডেও ছিলেন বক্তা হিসেবে। সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেসের এই আসন সমঝোতা বা জোট, বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন?

দীপঙ্কর ভট্টাচার্যঃ দেখুন কেউ ঠেকে শেখে, কেউ ঠেকেও শেখে না। পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম বা বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের আসন সমঝোতার কী ফল হয়েছে তা আমরা সবাই জানি। কংগ্রেসের কিছু লাভ হয়ে থাকতে পারে এর ফলে, কিন্তু সিপিএমের কোনও লাভই হয়নি। ভোটের নিরিখেও হয়নি, সিটের নিরিখেও না। বরং বামেদের জায়গাটা সঙ্কুচিত হয়েছে। এর পরও এবার যদি সিপিএম বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে তবে বলব, এটা দুর্ভাগ্যজনক। এটা যদি হয় তবে তা আরও একটা কৌশলগত ভুল হবে, এর কোনও বাস্তবিক ভিত্তি নেই।

প্রশ্নঃ কিন্তু সিপিএম বলেছে, কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার জন্য বিজেপির ভোট কমানো গিয়েছে।

দীপঙ্কর ভট্টাচার্যঃ আমাদের অ্যানালিসিস হচ্ছে ২০১৬ সালে সিপিএম-কংগ্রেস আসন সমঝোতার জন্য পরোক্ষভাবে বিজেপির ভোট বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ খুব সহজ। ভোটের রেজাল্টের দিনই সিপিএম বলেছিল, কংগ্রেসের ভোট তারা পায়নি। এটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঠিক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিভিন্ন আসনে যে কংগ্রেসিরা সিপিএমকে ভোট দেননি, তাঁরা তবে কোথায় ভোট দিলেন? নিজেদের সিম্বল থাকলে হয়তো সেখানেই ভোটটা দিতেন, কিন্তু তা না থাকায় সিপিএমকে না দিয়ে তাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। কংগ্রেসের ভোট যে বিজেপিতে যায়, তা তো আমরা সম্প্রতি ত্রিপুরাতেই দেখেছি। আবার সিপিএমের ভোটও সাম্প্রতিক অতীতে বিজেপিতে গেছে। এর একটা বড় কারণও এই আসন সমঝোতা।

প্রশ্নঃ সেটা কেন বলছেন?

দীপঙ্কর ভট্টাচার্যঃ কারণ, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বামপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি করতে হবে এটা নিয়ে কারও কোনও সংশয় নেই। বামপন্থীদের লড়াইয়ের এলাকা বাড়াতে হবে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই আসন সমঝোতার পর থেকে বামপন্থীদের লড়াইয়ের পরিসর আরও ছোট হয়েছে, লোকসভায় আসন সমঝোতা হলে তা আরও সঙ্কুচিত হবে। আর এই সুবিধেটাই নেবে বিজেপি। বামপন্থীদের লড়াইয়ের পরিসর যত ছোট হবে ততই তা বিজেপির বৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক হবে। কারণ, কংগ্রেসের থেকে বিজেপিতে যাওয়ার বহু উদাহারণ দেশে আছে।

প্রশ্নঃ আপনারা তো এই মুহূর্তে বৃহত্তর বামফ্রন্টের মধ্যেই আছেন, কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু রাজ্যের নির্বাচনী কৌশলগত লাইন নিয়ে আপনাদের সঙ্গে তো সিপিএমের মৌলিক বিরোধ হয়ে যাচ্ছে।

দীপঙ্কর ভট্টাচার্যঃ তা হয়তো হচ্ছে। কিন্তু আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। আমরা পশ্চিমবঙ্গে তিনটি আসনে (হুগলি, বর্ধমান পূর্ব, কৃষ্ণনগর) প্রার্থী দেব। অন্য আসনগুলিতে বামেদেরই সমর্থন করব। আমার মতে, সিপিএম বাংলায় এখনও বিজেপিকে আন্ডার এস্টিমেট করছে। ভাবছে, ওটা হিন্দি বলয়ের পার্টি, রাজ্যে ওদের কোনও ভিত নেই। এটা ঠিক নয়। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা বাস্তবিক ক্ষেত্রে নির্বাচনী রাজনীতিতে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি করবে।

You may also like