স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দোষে এনসেফ্যালাইটিসে শিশুদের মৃত্যু মিছিল এবং জল সঙ্কট নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের মুজফফরপুর জেলার হরিবংশপুর গ্রামে। এই এলাকায় কার্যত মহামারির আকার নিয়েছে এনসেফ্যালাইটিস। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ৩৯ জনের মধ্যে রয়েছে একাধিক মা-বাবা, যাঁরা এনসেফ্যালাইটিসে সদ্য সন্তানকে হারিয়েছেন।
মঙ্গলবার মুজফফরপুরের হরিবংশপুর গ্রামের বাসিন্দারা লাগাতার শিশু মৃত্যু এবং ভয়াবহ জল সঙ্কটে সরকারি উদাসীনতার অভিযোগে বৈশালি-মুজফফরপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। সেই পথ দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের। এনসেফ্যালাইটিস পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুজফফরপুরে যাচ্ছিলেন নীতিশ কুমার।
সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, সেই বিক্ষোভ ও পথ অবরোধে অংশ নেওয়া ৩৯ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই ৩৯ জনের মধ্যে রয়েছেন এনসেফ্যালাইটিসে সন্তান হারানো মা-বাবাও, বলে সূত্রের খবর। তবে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নীতিশ সরকার। বাধ্য হয়ে ধীরে চলো নীতি নেয় বিহার পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, আপাতত ৩৯ জনের কাউকেই গ্রেফতার করা হবে না, যদিও তদন্ত চলবে।
আরও পড়ুন: গবাদি পশু পাচার রুখতে গিয়ে গাড়ির চাকার পিষ্ট হয়ে খুন মহিলা সাব ইন্সপেক্টর
কী বলছেন অবরোধকারী গ্রামবাসীরা? হাইওয়ে অবরোধ করা ছাড়া তাদের কাছে আর কোনও উপায় ছিল না বলে জানাচ্ছেন তারা। আমার চোখের সামনে এক ঘণ্টার ব্যবধানে আমার দুই ছেলে মারা গেল। আমার ছেলেদের মৃত্যু রুখতে সরকারের দিক থেকে কিছুই করা হয়নি। নেতা বা অফিসাররা কোনও কাজ করেননি। মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের অবহেলার জন্য আমার সব শেষ হয়ে গেল। অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক মহিলা। যিনি সদ্য তাঁর দুই ছেলেকে হারিয়েছেন বলে সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর।
বিহারের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, পয়লা জুন থেকে এখনও পর্যন্ত ৭০০ শিশু অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিস সিনড্রোম বা এইএসে আক্রান্ত হয়েছে। বিহারের ৪০ টি জেলার মধ্যে ২০ টি জেলাতেই ভয়াবহ আকার নিয়েছে এনসেফ্যালাইটিস। ইতিমধ্যেই রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে শতাধিক শিশুর। বেসরকারি মতে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুশো।
বিহারে মারণ এনসেফ্যালাইটিস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে স্বয়ং সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালত ৭ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। শুধু সুপ্রিম কোর্টই নয়, নীতিশ সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডাহা ফেল বলে দাবি বিহারের অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোরও।
আরও পড়ুন: পাক সেনার সাংবাদিক বৈঠক দেখানোয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নোটিস এবিপি নিউজ ও তিরঙ্গা টিভিকে




