ভারত-চিন সংঘর্ষে রক্তাক্ত গালওয়ান উপত্যকা। গত ১৫ জুন চিনা সৈন্যের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান ২০ জন ভারতীয় জওয়ান। কিন্তু ওই সংঘর্ষে কত জন চিনা সেনা প্রাণ হারিয়েছে, তা কখনওই পরিষ্কার করেনি বেজিং। এর মধ্যেই চিনের এক সৈন্যের কবরের ছবি সে দেশের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম Weibo তে ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে এই ছবিটি গালওয়ান সংঘর্ষে নিহত এক চিনা সেনার। তাই যদি হয়, তাহলে এটিই গালওয়ানের সংঘর্ষে চিনা সেনার মৃত্যুর প্রথম প্রমাণ। তবে এখনও এই ছবির সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
কিন্তু চিনের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের People’s Liberation Army বা মিলিটারি ফোরামগুলিতে এই ছবি সবচেয়ে বেশি শেয়ার হচ্ছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি। ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে এক চিনা সেনার (পিএলএ) কবরের উপর একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে। তাতে মান্দারিন লিপিতে লেখা, ”চেন জিয়ানগ্রংয়ের স্মৃতিসৌধ। পিয়াগনানের ওই বাসিন্দা ৬৯৩১৬ ট্রুপের সৈন্য ছিলেন। ২০২০ সালের জুন মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। চিনের কেন্দ্রীয় সেনা কমিশন তাঁকে চিরদিন মনে রাখবে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটাই গালওয়ানে চিনা সৈন্যদের মৃত্যুর প্রথম সুনির্দিষ্ট প্রমাণ।

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্ট: সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ কারও মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে না
স্মৃতিসৌধে লেখা বিবরণ অনুযায়ী, ২০০১ সালে জন্ম ওই সেনা মাত্র ১৯ বছর বয়সে শহিদ হন।
ভারত- চিন, দুই দেশের সম্পর্কে একাধিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও গত কয়েক দশকে এমন রক্তক্ষয়ী ‘সংঘর্ষ’ আগে কখনও হয়নি। তবে ১৫ জুনের ওই সংঘর্ষে ব্যবহার হয়নি কোনও আগ্নেয়াস্ত্র। পুরোটাই হয়েছে হাতাহাতি। ১৫ জুনের সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা শহিদ হন। আহত হন বেশ কয়েকজন। চিনেরও বহু সেনার প্রাণ গিয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করলেও চিনের তরফে তা কখনওই স্বীকার করা হয়নি। শুরুতে বেজিংয়ের তরফে বলা হয়েছিল, ভারতের প্রতি সৌহার্দ্যের বার্তা দিতেই তাদের তরফে হতাহতের সংখ্যা জানানো হচ্ছে না। যদিও পরে তারা একজন কম্যান্ডিং অফিসারের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অবশ্য শুরু থেকেই জানিয়েছিল, চিনের তরফেও হতাহতের সংখ্যা যথেষ্টই। এবার চিনে জনপ্রিয় সোশ্যাল সাইটে পিএলএ সেনার কবরের ছবি ঘিরে তীব্র কৌতুহল তৈরি হয়েছে। তাহলে কি এবার আরও এমন কবরের দেখা মিলবে? প্রশ্নে ছয়লাপ ট্যুইটার-ফেসবুক।




