ইউক্রেনের অন্যতম যে দাবির জন্য যুদ্ধ, এবার সেখান থেকেই সরে আসতে চাইছেন জেলেনস্কি। যার ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, এবার কি তবে যুদ্ধ শেষের পথে? মূলত ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্যপদ চাওয়া নিয়েই রাশিয়া তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। এবার সেই দাবি থেকেই সরে আসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, আপাতত ন্যাটোর সদস্য হওয়ার দাবি থেকে ইউক্রেন সরে আসতে চাইছে। সেই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গেও আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেন, দেশের পূৰ্বপ্রান্তে লুহানস্ক এবং ডনেৎস অঞ্চল নিয়েও তাঁরা মস্কোর সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত। এই দুটি অঞ্চল ডনবাস নামে পরিচিত। মূলত এই ডনবাস অঞ্চলে রুশপন্থীরা থাকেন। যুদ্ধের শুরুতেই এই দুটি অঞ্চলকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করে রাশিয়া।
মঙ্গলবারের বিবৃতিতে ন্যাটোকেও তীব্র কটাক্ষ করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর কথায়, ন্যাটো ইউক্রেনকে সদস্য হিসেবে নিতে প্রস্তুত নয়। ওঁরা হয়তো ভাবছে আমাদের সদস্য করলে রাশিয়া রুষ্ট হবে। তাই হয়তো পিছিয়ে আসছে। এই বিষয়টি জানার পর আমরাও আপাতত ন্যাটোর সদস্য হতে ইচ্ছুক নই। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমি এমন একটি দেশের প্রেসিডেন্ট হতে চাই না, যারা কোনও কিছুর জন্য ভিক্ষে করেছে।
আরও পড়ুন: ‘নারীশক্তির জয়’, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী মোদী, মুখ্যমন্ত্রীর
সব মিলিয়ে যুদ্ধের মূল কারণ থেকে সরে আসায়, আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে এবার হয়তো যুদ্ধ শেষ হতে পারে। তবে পর্যবেক্ষকদের একাংশের আরও দাবি, ইউক্রেনের তরফে এটি একটি কৌশলও হতে পারে। জেলেনিস্কির এই দাবির পরেও যদি রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ-এ পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সে দায় সম্পূর্ণ রাশিয়ার উপরে বর্তাবে।
