Take a fresh look at your lifestyle.

ভারত পেট্রোলিয়াম, শিপিং কর্পোরেশন সহ ২৩ টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রির পথে মোদী সরকার?

মন্দায় ধুঁকছে শিল্পক্ষেত্র, জিডিপি নেমে এসেছে ৫ শতাংশে, যা গত ৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। দেশের অর্থনীতির পালে হাওয়া জোগাতে তাই একগুচ্ছ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে বিলগ্নিকরণের পথে মোদী সরকার।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে ২৩ টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিলগ্নিকরণ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ হতে চলেছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের লক্ষ্য, আগামী ৫ মাসের মধ্যে এই বিলগ্নিকরণ প্রক্রিয়া মিটিয়ে ফেলা। ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড, শিপিং কর্পোরেশন, কনকর সংস্থা, নর্থ ইস্টার্ন ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড, টিএইচডিসির মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্তাগুলোকে বিলগ্নিকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই বিলগ্নিকরণের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৫ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে মোদী সরকার।
কিছুদিন আগেই কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছিল, আপাতত ২৩ টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে বিলগ্নিকরণের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া, পবন হংস, ব্রিজ অ্যান্ড রুফের মতো সংস্থাও। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় বৈঠকে সরকারি সংস্থা বিক্রির নীতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথম মোদী সরকারের সময় থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিত নীতি আয়োগ। এখন থেকে বিলগ্নিকরণের সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট। এই ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে নীতি আয়োগ যৌথভাবে চিহ্নিত করবে কোন কোন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিক্রি হবে।
দ্বিতীয় দফায় মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়া, রেলের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে বিলগ্নিকরণ ও বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ খারাপের দিকে। ৫ শতাংশে নেমে যাওয়া আর্থিক বৃদ্ধির হারকে টেনে তুলতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ কর্পোরেট ট্যাক্সে ছাড় ঘোষণা করেছেন। এফডিআইয়ের নিয়ম শিথিল করছেন। এত কিছুর পরেও অর্থনীতির হাল ফেরানো যায়নি। অটোমোবাইল সেক্টর ধুঁকছে। বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে মন্দার ছোঁয়া। এরমধ্যে, ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ডের (আইএমএফ) পূর্বাভাস, আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী মন্দার ছোঁয়া সবচেয়ে বেশি পড়বে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে। ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে সাবধানবাণী দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কও। এই প্রেক্ষিতে বিলগ্নিকরণকেই আর্থিক মন্দা কাটানোর হাতিয়ার করেছে মোদী সরকার।

Comments are closed.