অবশেষে জোটবদ্ধ হলেন শহরের স্বাধীন চলচিত্র নির্মাতারা। স্বল্প দৈর্ঘের ছবি, তথ্যচিত্রের মতো স্বাধীন চলচ্চিত্রের মঞ্চ হিসাবে পথ চলা শুরু করল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম কাউন্সিল বা স্বাধীন চলচ্চিত্র সংসদ। নানা বঞ্চনা এবং প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ার ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ফিল্ম সোসাইটির ধাঁচে এরকম একটি মঞ্চ তৈরির তাগিদ অনুভব করছিলেন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা। সম্প্রতি একটি প্রতিবাদী ফেসবুক পোস্ট’কে কেন্দ্র করে একজোট হন শহরের তরুণ কয়েকজন চিত্র পরিচালক ও কলাকুশলী। নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনার পর সম্প্রতি তাঁরা গড়ে তুলেছেন এই ‘ইণ্ডিপেন্ডেন্ট’ ফিল্ম কাউন্সিল। এরই মধ্যে এই মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ও ভিন রাজ্যের সমমনোভাবাপন্ন চিত্র নির্মাতা ও কলাকুশলীরা।  রয়েছেন ইন্দ্রাশিস আচার্য্য এবং অমর্ত্য ভট্টাচার্য্যের মতো পরিচালকেরা।

শহর, মফস্বল এমনকী দূরবর্তী গ্রামেরও অনেক চিত্র পরিচালক আছেন যাঁরা নিজ উদ্যোগে স্বাধীন, স্বল্প দৈর্ঘের ছবি বানাচ্ছেন। নিজেদের সৃষ্টির মাধ্যমে নিত্য নতুন বিষয় তুলে ধরতে চাইছেন দর্শকদের সামনে। কলকাতার বেশ কয়েকজন তরুণ প্রতিভাবান চিত্র পরিচালকের ‘শর্ট ফিল্ম ‘ এবং ‘ডকুমেন্টরি’ দেশ-বিদেশের বহু চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চেও সমাদৃত হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রচার, বিপণন এবং প্রদর্শনের সঠিক মঞ্চের অভাবে তাঁদের এই ছবিগুলি এখনও থেকে যাচ্ছে সাধারণ দর্শকদের চোখের আড়ালে।
তবে শুধু প্রচার বা প্রদর্শনের মঞ্চ নয়, আর্থিক প্রতিবন্ধকতাও এই ধরনের ছবি তৈরির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। শহরের একাধিক চিত্র পরিচালক জানিয়েছেন, পূর্ণ দৈর্ঘের ছবির মতো বাজার বা টাকা বিনিয়োগের জন্য প্রোডিউসার দু’টোরই খুব অভাব এই ধরনের ছবির ক্ষেত্রে। তাই বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাঁদের। কখনও চিত্রনাট্য ও কলাকুশলীরা তৈরি থাকলেও টাকার অভাবে শ্যুটিং শুরু করা যায় না। কখনও বা ছবির শ্যুটিং শুরু হয়ে তা মাঝ পথে আটকে যায়। যেহেতু মূলত ব্যক্তিগত উদ্যোগ বা ক্রাউড ফান্ডিংএর মাধ্যমে এই ধরনের ছবি তৈরির অর্থ জোগাড় করতে হয়, তাই পরিচালকদের টিকে থাকার লড়াইও যথেষ্ট কঠিন। বছরে দু’একবার হয়তো কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের মতো বড় কোনও মঞ্চে আলাদা বিভাগে ছবিগুলি প্রদর্শিত হয়, তারপর আবার সেই এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের।

এই সব দিক বিচার-বিবেচনা করেই এই মঞ্চ তৈরির উদ্যোগ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ। উদ্যোক্তাদের তরফে অঙ্কিত বাগচী জানিয়েছেন, এই মঞ্চের মাধ্যমে তাঁরা শুধু কলকাতা নয় জেলা সদর, মফস্বল, এমনকী গ্রামেও ছবি দেখানোর ব্যবস্থা করতে চান। যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ছবিগুলি পৌঁছে দেওয়া যায় এবং চিত্র পরিচালকরা ভবিষ্যতে কাজের আরও উৎসাহ পান।

সোম চক্রবর্তী ।

যাঁর প্রতিবাদী ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে এই মঞ্চের আবির্ভাব, পরিচালক সোম চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এখানে সব রকম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম নিয়ে কাজ করা হবে। এক ছাতার তলায় সবাই এই ধরনের ছবি নিয়ে আলোচনা ও মত বিনিময় করতে পারবেন। করা হবে ছবি প্রদর্শনের ব্যবস্থা। চেষ্টা চলছে রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরে যেখানে এই ধরনের ভালো ছবি তৈরি হচ্ছে সেগুলি নিয়ে একটি ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরির।

উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, রাহুল রায়,অনীক চৌধুরী, তপন চিস্তির মতো শহরের তরুণ চিত্র পরিচালকরা।

রাহুল রায়।

রাহুলের মতে, স্বাধীন চলচ্চিত্রের নিজস্ব এক স্বতন্ত্রতা আছে। ভালো সিনেমা উদযাপনের এমন উদ্যোগ সাধুবাদ যোগ্য।

অনীক চৌধুরী।

অনীক চৌধুরী জানিয়েছে, তিনি যখন কাজ শুরু করেছিলেন তাঁকেও ছোট ছবি তৈরির জন্য টাকার সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। সেদিক থেকে এটি আইএফসি একটি ভালো প্রচেষ্টা। তবে তাঁর মতে, এখনও অনেক পথ এগোতে হবে।

তপন চিস্তি।

পরিচালক তপন চিস্তির মতে, এরকম মঞ্চের মাধ্যমে যদি সবাই একে এপরের সাহায্যে ছবি বানায়, ছবির প্রদর্শন হয়, তবে তাঁদের চলার পথটা অনেক সহজ হয় যায়।

ইতিমধ্যেই আইএফসি এর উদ্যোগে হুগলিতে একটি ছোট ছবির উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১৬ জুন কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এরকম আরও বেশ কয়েকটি ছবির স্ক্রিনিং ।

You may also like