যারা চলে গিয়েছে তৃণমূল তাদের টিকিট দিত না, সোমবার হুগলির পুরশুড়ার সভা থেকে তৃণমূলের দলত্যাগীদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।
বর্তমানে বঙ্গ রাজনীতির বহু চর্চিত বিষয় দলবদল। ইতিমধ্যেই তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী সহ একাধিক নেতা, বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। রাজীব ব্যানার্জি সহ আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে খবর। বিজেপি থেকে তৃণমূলে এসেছেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী সুজাতা খাঁ। এদিন হুগলির সভা মঞ্চে তাঁকে মমতার পাশেই দেখা যায়।
সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক কাজের খতিয়ান দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তারপরেই দলবদল প্রসঙ্গে সুর চড়ান মমতা। শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রী গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর ফলে যে তৃণমূলে আদতে কোনও প্রভাব পড়বে না তা এদিন স্পষ্ট করেন মমতা। যারা দল ছেড়ে গেছে ভবিষ্যতে যে তাদের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের দরজা বন্ধ, এদিন তাও বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো ।
আরও পড়ুন: মোদীর আমলে দেশজুড়ে ৩০ টি লোকসভা আসনের উপনির্বাচনে মাত্র ৬ টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি, দেখুন ভিডিও
ক’দিন আগেই বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়াকে বহিষ্কার করে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। হুগলির উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষালও বেশ কিছুদিন ধরে বেসুরো। দলবিরোধী কার্যকলাপ যে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না তা পুরশুড়ার সভা থেকে তাও জানিয়ে দেন মমতা।
বিধানসভা ভোটের মুখে শাসক দলের একাধিক নেতা মন্ত্রীকে নানা সময় দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। এতদিন পর্যন্ত বেসুরো নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। অনেকের মতে এদিনের সভা থেকে মমতা কার্যত দলের ভেতরের বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কড়া অবস্থান নিলেন।



