বিয়ের আসরে মত্ত বর! ওড়িশায় বিয়ে ভাঙলেন আদিবাসী তরুণী, সাহসিকতার জন্য সংবর্ধনা পুলিশ সুপারের

কনের সাজে বরের জন্য ছাদনাতলায় অপেক্ষা করছিলেন বছর কুড়ির মমতা ভোই। বর এলেন, কিন্তু চোখ ঢুলুঢুলু, পা টলমল। নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সময় নষ্ট করেননি ওড়িশার সম্বলপুরের আদিবাসী তরুণী। বিয়ের পিঁড়ি থেকে সটান উঠে গিয়ে জানিয়ে দেন, মাতাল বরকে বিয়ে করার প্রশ্নই নেই। শেষমেষ মত্ত বরকে নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয় বরযাত্রীরা। গত মে মাসের এই ঘটনা জেলা প্রশাসনের কানে আসে। মমতা ভোইয়ের এমন সিদ্ধান্তের জন্য আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবসে তাঁকে সংবর্ধনা দিলেন সম্বলপুরের পুলিশ সুপার সঞ্জীব অরোরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, মদ্যপকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে আসলে সমাজকে বার্তা দিয়েছেন মমতা। সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে, মমতার মতোই ভাবনাচিন্তা করা উচিত সব মহিলার, মন্তব্য পুলিশ সুপারের। মমতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জেলাশাসক শুভম সাক্সেনাও। আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবসের মঞ্চ থেকে পুলিশ আধিকারিকদের মন্তব্য, মমতা ভোইর এই সিদ্ধান্ত অনুপ্রেরণা যোগাবে আরও বহু লড়াকু তরুণীকে।
তাঁর সিদ্ধান্ত যে কাউকে অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে, তা ভাবতেই পারছেন না আদিবাসী তরুণীটি। মমতার কথায়, বিয়ের মণ্ডপে হবু বরকে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় দেখে তিনি বুঝে যান, এঁর সঙ্গে সংসার করে সুখী হওয়া অসম্ভব। বিয়ের মণ্ডপে হতদরিদ্র আদিবাসী তরুণীর মত্ত বরকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে পাড়া প্রতিবেশী অবাক হলেও, মমতা পাশে পেয়েছিলেন তাঁর পরিবারকে। বিয়ে ভেঙে দেওয়ার পর ওড়িশার ব্রজরাজনগরের এক ব্যক্তির সঙ্গে মমতার বিয়ে ঠিক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Comments are closed.