বিতর্কের পর অ্যাকাডেমির সামনে থেকে সরল পাথর। গোটা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ তসলিমা নাসরিনের

বিতর্ক ও প্রতিবাদের পর অবশেষে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের সামনে থেকে সরল পাথর। কলকাতার সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র অ্যাকাডেমি চত্বরে, অ্যকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের সামনে একটি গাছের তলায় পাথর বসানো এবং সেই পাথর দুটি’কে দেবতা জ্ঞানে পুজো করা এবং তার বিরোধিতায় একদল মানুষের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল অ্যাকাডেমি চত্বরে। প্রশ্ন উঠেছিল শহরের সাংস্কৃতিক পীঠস্থানকে ধর্মীয় আখড়া বানানোর প্রচেষ্টা চলছে কিনা, তা নিয়ে। তবে সোমববার দুপুরের পর ওই চত্বর থেকে পাথর দুটি সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কাদের উদ্যোগে এই পাথর দুটি সরানো হল তা প্রতিবাদীরা স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি।

এবার শহরের প্রতিবাদী-প্রগতিশীল-সংস্কৃতি মনষ্ক মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। রবিবার রাতে একটি ফেসবুক পোস্টে এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রখ্যাত এই লেখিকা লিখেছেন,’ধার্মিকদের নিয়ে মুশকিল, তারা পৃথিবীর সব যায়গা দখল করে নিতে চায়। সব প্রতিষ্ঠানকে তাদের সমর্থক করতে চায়।’ এই ধরনের ঘটনাকে তিনি, ধর্ম দিয়ে সমাজ ছেয়ে ফেলার ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন। ধর্মের নোংরা রাজনীতি থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বাঁচানোরও ডাক দিয়েছেন তিনি। তসলিমা তাঁদের পাশে দাঁড়ানোয় লেখিকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রবিবারের প্রতিবাদী সভার অন্যতম উদ্যোক্তা পাঞ্চালী কর। তবে পাঞ্চালীর বক্তব্য, একবিংশ শতব্দী তে দাঁড়িয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটাই লজ্জাজনক। বিষয়টি পুলিশ-প্রসাশনের সর্বোচ্চস্তরে আজ-কালের মধ্যেই জানানো হবে বলেও পাঞ্চালী জানিয়েছেন।

রবিবারের প্রতিবাদ সভার অন্যতম আহ্বায়ক সৌপর্ণ অধিকারী জানিয়েছেন, রবিবারের ঘটনার প্রেক্ষিতে সেদিনই তাঁরা একটি গণসাক্ষর সম্বলিত ডেপুটেশন হেস্টিংস থানার আধিকারিকদের কাছে জমা দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে আবেদন করা হয়েছিল, বেআইনি এই ধর্মীয় প্রতীক বা কার্যকলাপ যাতে অ্যাকাডেমি চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যে গাছের তলায় অই পাথর দুটি বসানো হয়েছিল সে জায়গাটিও ঘিরে দিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনার জেরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে শহরের প্রগতিশীল ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, শহরের অন্যত্র তো মন্দির স্থাপন বা মূর্তি পুজোর যায়গার অভাব পড়েনি। তাহলে অ্যাকাডেমির মতো সাংস্কৃতিক কেন্দ্র যা দশকের পর দশক ধরে মুক্তচর্চার এক কেন্দ্র বলে পরিচিত, সেখানে এই ধরণের ধর্মীয় কার্যকলাপ কেন হবে!

Leave A Reply

Your email address will not be published.