Take a fresh look at your lifestyle.

লোকসভা মিটতেই কেরলকে পাখির চোখ মোদী-রাহুলের, বামেদের শক্তিক্ষয়কে হাতিয়ার করতে মরিয়া বিজেপি-কংগ্রেস

লোকসভা ভোট মিটতে না মিটতেই সিপিএম শাসিত কেরলেকেই নয়া যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিল বিজেপি এবং কংগ্রেস। শনিবার একই সঙ্গে কেরলে ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।
বিজেপি এবং কংগ্রেসের দুই প্রধান সেনাপতি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ভোট শেষে তাঁদের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাম শাসিত রাজ্য কেরলকে। দক্ষিণের এই রাজ্যে খাতাই খুলতে পারেনি বিজেপি, অন্যদিকে দুর্দান্ত ফল করেছে কংগ্রেস। যা সামগ্রিকভাবে সারা দেশে তাদের ফলের কার্যত বিপরীত।
কেরল। জাতীয় রাজনীতিতে অবশিষ্ট বাম ধারা এখন শুধু এ রাজ্যেই। সেই রাজ্যেরই সাবরীমালা মন্দির নিয়ে সারা দেশে বিতর্কের তুফান উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছিল কেরলের পিনারাই বিজয়ন সরকার, অন্যদিকে ভাবাবেগের প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালতের রায়ের প্রকাশ্য বিরুদ্ধাচারণ করেছিল বিজেপি। কংগ্রেসও মানুষের ভাবাবেগের কথা বলে সাবরীমালা ইস্যুতে নরম হিন্দুত্বের লাইন নেয়। ভোটে ভরাডুবির পরও পিনারাই বিজয়ন সরকার তাদের পুরনো নীতিতেই অনড়। সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য তথা কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সাফ কথা, ভোটের স্বার্থে মতাদর্শের সঙ্গে আপোশ করা হবে না।
এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন কেরল পৌঁছেই পুজো দিয়েছেন গুরুভায়ুর মন্দিরে। তাঁর ওজনের সমান পদ্ম ফুল দিয়েও তাঁকে ওজন করা হয়। মোদী বলেন, অনেকেই অবাক হচ্ছেন, যে কেরলে বিজেপি শুন্য পেল, সেখানে মোদী কী করছেন! অন্যদিকে রাহুল গান্ধী সরাসরি মন্দির-মসজিদে না গেলেও নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ওয়েনাড়ে একাধিক রোড শো করে ফেলেছেন। আগামী ৩ দিন ওই লোকসভার ৭ টি বিধানসভা কেন্দ্রেই রোড শো করার পরিকল্পনা আছে রাহুলের। জনসভাতেও নিয়ম করেই আক্রমণ শানাচ্ছেন মোদী সরকারকে।
শুধুই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র সফর কিংবা গুরুভায়ুর মন্দিরে পুজো দেওয়া নয়, স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে পরিচিতরা বলছেন, দুই সেনাপতির কেরল সফরের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। আর তা হল, বিজয়নের বামপন্থী সরকার যেভাবে নির্বাচনী ভরাডুবির পরও সাবরীমালা কিংবা অন্যান্য ইস্যুতে দিশা বদলের কোনও ভাবনা দেখাচ্ছে না, তাকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন জাতীয় রাজনীতির দুই সেনাপতি। কারণ, তাঁদের দুজনেরই লক্ষ্য ২০২১ সালে কেরলের বিধানসভা নির্বাচন।
তাই লোকসভা মিটতে না মিটতেই কেরলকে টার্গেট করেছেন মোদী এবং রাহুল। পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন, সারা দেশে খারাপ ফলের মধ্যে কংগ্রেস সভাপতির একমাত্র পাওনা কেরল। তাই কেরলকেই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছেন রাহুল।

Comments are closed.