সোহরাবুদ্দিন ভুয়ো এনকাউন্টার মামলায় অভিযুক্তদের বেকসুর খালাসের বিরুদ্ধে আবেদন গ্রহণ করল বম্বে হাইকোর্ট

সোহরাবুদ্দিন ভুয়ো এনকাউন্টার মামলায় সিবিআই আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মৃত সোহরাবুদ্দিন শেখের ভাই রুবাবুদ্দিন শেখ ও নয়াবুদ্দিন শেখের দায়ের করা আবেদন গ্রহণ করল বম্বে হাইকোর্ট। সোমবার তাঁদের আবেদন গ্রহণ করে বিচারপতি আই এ মহান্তি ও বিচারপতি এ এম বদরের ডিভিশন বেঞ্চ। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের নোটিস পাঠাল বম্বে আদালত।
২০১৮ সালের ২১ শে ডিসেম্বর সোহরাবুদ্দিন ভুয়ো এনকাউন্টার মামলায় উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের অভাবে ২২ জন অভিযুক্তকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিয়েছিল সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন গুজরাত ও রাজস্থানের বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসার।
সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের এই রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য বম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেন সোহরাবুদ্দিনের ভাইরা। সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারপতি এস জে শর্মার রায়দানে অখুশি হয়ে এর আগে রুবাবুদ্দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, সিবিআই এবং ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে চিঠি লিখেছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে গুজরাতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সোহারাবুদ্দিন শেখ ও তাঁর সঙ্গী তুলসিরাম প্রজাপতির মৃত্যু হয়। পরে সোহরাবুদ্দিনের স্ত্রী কৌসর বাঈর মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে, ভুয়ো এনকাউন্টারে খুন করা হয়েছে সোহারাবুদ্দিন ও তুলসিরামকে। সেই সময় তদন্তে নেমে মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় সিবিআই, যাঁর মধ্যে ছিলেন গুজরাতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অমিত শাহ, শীর্ষ পুলিশ অফিসার ডিজি বানজারা এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসার। মামলাও দায়ের হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ বারো বছর সেই মামলা চলার পর গত ২১ শে ডিসেম্বর সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত ২২ জনকে বেকসুর খালাস করার নির্দেশ দেয়। সেদিন সোহারাবুদ্দিনের ভাইয়ের প্রতিক্রিয়া ছিল ‘অন্ধা কানুন’ চলছে দেশে। জানিয়েছিলেন, ফের আদালতে যাবেন তাঁরা।
সোমবার বম্বে হাইকোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় সোহরাবুদ্দিনের ভাইদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ হাতে থাকা সত্ত্বেও ডিসেম্বরে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের রায়ে অসঙ্গতি স্পষ্ট ছিল। তাই এই রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য আদালতে আবেদন জানান পিটিশনকারীরা।

Comments are closed.