প্রতিমুহূর্তে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, বাংলাকে সন্তোষের মূলপর্বে তোলা নবির স্বপ্নে ইস্টবেঙ্গল

বেলুড়ের লালবাবা কলেজ থেকে দু তিন মিনিটের হাঁটা পথ মিয়া লাইন জুটমিল কোয়াটার। এখানেই একটি ছোট্ট ঘরে থাকেন নবি হুসেন খান। বছর ২১ এর এই ফুটবলারের অধিনায়কত্বেই অসাধ্য সাধন করেছে বাংলা। সন্তোষ ট্রফি যোগ্যতা অর্জন পর্বের প্রথম ম্যাচে বিহারের কাছে হেরে গিয়েছিল বাংলা। দ্বিতীয় ম্যাচে ওড়িশার সঙ্গে শুধু জিতলেই হতো না, মূল পর্বে পৌঁছতে গেলে জিততে হতো চার গোলে। শেষ পর্যন্ত প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করেছে বাংলা। সেই ম্যাচেই বাংলার আর্মব্যান্ড ছিল নবির হাতে। টানা ৩ দিন ২৭০ মিনিট খেলেই বাংলাকে মূলপর্বে তুলেছেন নবি। প্রথমদিন বাংলার হয়ে সন্তোষ ট্রফিতে বিহার ম্যাচ খেলেছেন। সেদিন রাতে থেকে গিয়েছিলেন কল্যাণীতে। তার পরের দিন সকালে ট্রেন ধরে চলে আসা কলকাতায়। লিগের ম্যাচে জর্জ টেলিগ্রাফ এর জার্সি গায়ে ভবানীপুরের বিরূদ্ধে খেলেন। সেই ম্যাচে জিতে সন্ধ্যাবেলা ভিড় ট্রেনে আবার ফিরে যান কল্যাণী। পরেরদিন উড়িষ্যায় বিরুদ্ধে অসম্ভবকে সম্ভব করেন। ফুটবল বিজ্ঞান বলে প্রতি সপ্তাহে একটির বেশি ম্যাচ খেলা উচিত নয় কোন ফুটবলারের। সেখানে টানা তিনদিন, তিনটি ম্যাচ। স্রেফ ভালবাসার জোরেই ক্লান্তিকে হেলায় হারিয়েছেন নবি।

আর জীবনের লড়াইয়ে রোজ নবি হারাচ্ছেন চরম দারিদ্রকে। তার বাবা জয়নুল খান জুটমিল শ্রমিক। তার‌ রোজগারে সংসার চলে। আর মাসকয়েক বাদেই চাকরি থেকে অবসর নেবেন। তখন ছাড়তে হবে কোয়ার্টার। আবার খুঁজতে হবে নতুন আস্তানা। নবির একটা চাকরি খুব প্রয়োজন। কারণ কলকাতা লিগ এখন শেষ। আই লিগের জন্য দল খুঁজছেন এই তরুণ ফুটবলার। দল পেলেও জানুয়ারির আগে খেলতে পারবেন না। আগামী তিন মাস তাঁর কোনও স্থায়ী রোজগার নেই। নবি বলছিলেন, ‘একটা চাকরি খুব দরকার। আশা করি সন্তোষ ট্রফি খেলার পর, চাকরি পেতে সুবিধা হবে। তবে আমার বাবা কোনদিন বলেননি ফুটবল ছেড়ে দে, তুই চাকরি কর। বরং বলেন তুই ফুটবল খেল, আর কোনও দিকে মাথা দিতে হবে না। এই ভরসাতেই আমি এখনও খেলে যাচ্ছি।’

ছোটবেলা থেকে ইস্টবেঙ্গল সমর্থক এই ফুটবলার, একসময় লাল-হলুদের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের অধিনায়ক ছিলেন। তারপর সিনিয়র দলে সুযোগ না পেয়ে চলে এসেছিলেন জর্জ টেলিগ্রাফে। নবির স্বপ্ন ইস্টবেঙ্গলের সিনিয়র দলের লাল হলুদ জার্সি গায়ে চাপানো। তারপর কোন একদিন ভারতীয় দলের নীলরঙা জার্সিটা। এই স্বপ্ন নিয়েই প্রতিদিন লড়াই চালাচ্ছেন নবি।

Comments
Loading...