রাজ্যের প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে বাংলার রাজনীতিতে ফের নতুন মাত্রা যোগ করলেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা এবং মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়। হিন্দি ভাষা বাধ্যতামূলক করার ইস্যুতে ‘রাজ্যের মেয়েরা মুম্বইয়ে বার ডান্স করে’, কিংবা জয় বাংলা স্লোগানকে ‘দেশদ্রোহিতা’ আখ্যা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত মন্তব্য করে ইতিমধ্যেই শিরোনামে এসেছেন তথাগত রায়। রাজ্যপালের পদে থেকে তিনি কীভাবে লাগাতার রাজনৈতিক মতামত দিয়ে চলেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। এবার রাজ্যের নাম বদলের প্রস্তাব নাকচ হওয়ার জন্য বেনজিরভাবে ফেসবুক পোস্টে সরাসরি নিজের কৃতিত্ব দাবি করলেন তথাগত রায়।
বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন মেঘালয়ের রাজ্যপাল। সেখানে তিনি লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের অপচেষ্টা প্রতিহত করার কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের পিছনে আমি কৃতিত্ব দাবি করতে পারি কি? তারপর লিখেছেন, বিধানসভায় এবিষয়ে প্রস্তাব পাস করার পর তিনি নিজে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেই তিনি রাজনাথকে বুঝিয়েছিলেন রাজ্যের নাম বদলের প্রস্তাব মানা কেন উচিত নয়। এই প্রসঙ্গে বাংলা নামে সমর্থনকারী বিদ্বজ্জ্বনদেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়। তাঁদের নীতিবোধহীন বলে উল্লেখ করে তথাগত পোস্টে লিখেছেন, ধিক।

সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তরে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানায়, রাজ্যের নাম বদলে বাংলা করার জন্য প্রয়োজন সংবিধান সংশোধন। তা হয়নি। ফলে আপাতত রাজ্যের নাম বদল হচ্ছে না। তখন ভাবা হয়েছিল, প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক জটিলতার জেরেই নাম বদলে এই অচলাবস্থা। সেদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে এই জটিলতা কাটাতে অনুরোধ করেন।
কিন্তু একদিন বাদেই প্রাক্তন বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের পোস্টে গোটা ঘটনা প্রবাহে পড়ল গেরুয়া প্রলেপ। প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রীয় সরকারের আপত্তির পিছনে কি তাহলে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য? রাজ্যের নাম বদল না হওয়ার জন্য মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায় যেভাবে নিজের কৃতিত্ব দাবি করলেন, তাতে এই প্রশ্ন আরও প্রাসঙ্গিকতা পেয়েছে। যেভাবে তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বিজেপি কিংবা আরএসএসের ঘোষিত নীতিরই পুনরুচ্চারণ করেছেন এবং নেপথ্য কৃতিত্ব নিজে দাবি করেছেন, তাতে একটা জিনিস পরিষ্কার, পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে বাংলা না করার পিছনে কাজ করছে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কারণ।
এই প্রেক্ষিতেই রাজ্যপাল তথাগত রায়ের বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট, নাম বদলের কেন্দ্রীয় অসম্মতির নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকেই বড় করে তুলে ধরছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাজ্যের নাম বদল না হওয়ার জন্য বিজেপির রাজনীতিকেই দায়ী করেন। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের সুপারিশ মেনেই নাম বদলের প্রস্তাব পরিবর্তন করে পাঠানো হয়েছিল, এখন বিজেপি বলছে তা করতে দেবে না।
এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি রাজ্যের নাম বদল আটকে যাওয়ার পিছনে সংবিধান সংশোধন নয়, আসল কারণ বিজেপির রাজনীতি?
আরও পড়ুন: ৭ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে মমতা, ৮ তারিখ জবাব দিতে যাচ্ছেন শুভেন্দু