বিলিওনিয়ার ক্লাব থেকে ছিটকে গেলেন অনিল আম্বানী, অস্বস্তি বাড়িয়ে এবার বকেয়া টাকা দাবি করল একাধিক চিনা ব্যাঙ্ক

চলতি বছরের মে মাসেই প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ধুঁকতে থাকা অনিল আম্বানীর আর কম সংস্থাকে সরকারিভাবে দেউলিয়া ঘোষণা করেছে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলটি)। তার কিছুদিন আগে এরিকসন মামলায় অনিল আম্বানীর রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের হয়ে ৫৫০ কোটি টাকা দিয়ে ভাইয়ের জেল যাত্রা আটকেছিলেন মুকেশ আম্বানী। এরই মধ্যে দেশের বিলিওনিয়ার ক্লাব থেকেও ছিটকে গেলেন অনিল আম্বানী।
২০০৮ সালে বিশ্বের ষষ্ঠ ধনী ব্যক্তি ছিলেন অনিল আম্বানী। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ২ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯ সালে তা এসে ঠেকেছে ৫২৩ মিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৬৫১ কোটি টাকায়। যার মধ্যে আবার রয়েছে পরিশোধ না করা ঋণের টাকাও। ২০০৮ সালে ১ কোটি ৭০ লক্ষ কোটি টাকা দেনা ছিল অনিল আম্বানীর সংস্থার। সম্পত্তি বিক্রি করে এই ঋণ শোধ দিতে গিয়েই ব্যবসায় ধস নামতে শুরু করে অনিল আম্বানীর। গত এক বছরেই প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ শোধ করেছেন বলে অনিল আম্বানী নিজেই জানিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে অনিল আম্বানীর সম্পত্তি ৫২০ কোটি ডলার থেকে ২০১৬ সালে ২৫০ কোটি ডলারে পৌঁছোয়। প্রায় দেউলিয়া হওয়ার পথে যখন এগোচ্ছিল অনিলের সংস্থা, ঠিক সে সময়েই জোর ধাক্কা আসে সুইডিশ সংস্থা এরিকসনের মামলায়। চলতি বছরে তাঁর সংস্থার হয়ে ৫৫০ কোটি টাকা মিটিয়ে দিয়ে ভাইয়ের নিশ্চিত হাজতবাস ঠেকিয়েছিলেন দাদা মুকেশ আম্বানী। যদিও মে মাসে শেষ পর্যন্ত দেউলিয়া ঘোষণা করে অনিল আম্বানীর সংস্থা আর কম। এর মধ্যেই আরও একটি নয়া অস্বস্তিতে চিন্তায় অনিল আম্বানী। দেউলিয়া ঘোষণার আগে অনিল আম্বানীর সংস্থা তাদের কাছ থেকে ২১০ কোটি মার্কিন ডলার ধার নিয়ে শোধ দিতে পারেনি, এই অভিযোগ করে আইনের সাহায্য নিচ্ছে চিনের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক।
সোমবার রিলায়েন্স কমিউনিকেশন লিমিটিডের তরফে ঋণদাতাদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে দেখা গিয়েছে আর কমের মোট ঋণ ৫৭ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। আর এই ঋণের এক চতুর্থাংশই পাবে পাবে চিনা ব্যঙ্কগুলি। অনিল আম্বানীর সংস্থাকে সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঋণ দিয়েছে চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক। এই চিনা ব্যাঙ্কের কাছে আর কমের ঋণ প্রায় ৯ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। চিনের আরও দুটি ব্যাঙ্ক, এক্সিম ব্যাঙ্ক অফ চায়না এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক অব চায়না যথাক্রমে ৩ হাজার ৩৬০ কোটি এবং ১ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা দাবি করেছে আর কমের কাছে।

Comments are closed.