Gold ₹146,400/10g
Silver ₹245.00/g
Petrol ₹113.51/L
Diesel ₹99.82/L
Kolkata 31°C
18 July 2026

কে এই প্রধান যজ্ঞদত্ত ভুরিয়া, সোনভদ্রে যার গুণ্ডা বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হল ১০ আদিবাসীর, কী নিয়ে জমি বিবাদ?

এখনও থমথমে সোনভদ্র, জারি ১৪৪ ধারা

কে এই প্রধান যজ্ঞদত্ত ভুরিয়া, সোনভদ্রে যার গুণ্ডা বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হল ১০ আদিবাসীর, কী নিয়ে জমি বিবাদ?

থমথমে সোনভদ্রে কান পাতলে এখনও শোনা যাচ্ছে মানুষের আর্তনাদ। প্রধান যজ্ঞদত্ত ভুরিয়ার গুণ্ডাবাহিনী জমি কাড়তে এসে গুলিবৃষ্টি করেছে। তাতে মৃত্যু হয়েছে মহিলা সহ ১০ আদিবাসী কৃষকের। আহত বহু। কে এই যজ্ঞদত্ত ভুরিয়া যার বেপরোয়া বাহিনীর দাপটে জমি রক্ষা করতে গিয়ে চলে গেল এতগুলি প্রাণ? কেনই বা জমি নিয়ে বিবাদ?

স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৯৫২ সালে জনৈক আইএএস অফিসার প্রভাতকুমার মিশ্র পরিবারের সদস্যদের নামে একটি সোসাইটি স্থাপন করেন। যদিও গ্রামবাসীদের বক্তব্য, এই জমি গ্রামসভার। সেই সময় থেকেই জমি নিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে বিবাদের সূত্রপাত।

গ্রামবাসীদের তরফের আইনজীবী নিত্যানন্দ দ্বিবেদীর বক্তব্য, এই বিতর্কিত জমিটি বড়হরের রাজা আনন্দব্রহ্ম শাহের ৬০০ বিঘা জমির অন্তর্গত ছিল। জমিদারি প্রথা শেষ হওয়ার পর ভূমি ও রাজস্ব বিভাগ এই জমিটিকে পতিত বলে চিহ্নিত করে গ্রাম সভার সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত করে। ১৯৫২ সালে আইএএস অফিসার প্রভাতকুমার মিশ্র আদর্শ কোঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড অফ উভা প্রতিষ্ঠা করেন। নিত্যানন্দ দ্বিবেদীর দাবি, প্রভাতকুমার মিশ্র নিজের শ্বশুর, বিহারের মুজফফরপুরের বাসিন্দা মাহেশ্বরী প্রসাদ সিংহকে সোসাইটির সভাপতি করেন এবং নিজের স্ত্রী আশা মিশ্র হন সোসাইটির অন্যতম পদাধিকারী। একইভাবে প্রভাতকুমার মিশ্র নিজের মেয়ে বিনীতাকে সোসাইটির ম্যানেজার নিযুক্ত করেন। ১৯৮৯ সালে মাহেশ্বরী প্রসাদের মৃত্যুর পর আরও ২০০ বিঘা জমি আশা এবং বিনীতার নামে ট্রান্সফার করা হয়। দ্বিবেদীর দাবি, এর মধ্যেই ১৪৪ বিঘা জমি পরবর্তীতে ২ কোটি টাকার বিনিময়ে যজ্ঞদত্ত ভুরিয়াকে বিক্রি করেন আশা এবং বিনীতা।

আরও পড়ুন: ফের বাড়ল বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম; কলকাতায় দাম কত হল? 

২০১৭ সালের ১৯ শে অক্টোবর, যজ্ঞদত্ত ভুরিয়ার নামে জমির নামাঙ্কনের সময় শুরু হয় গোলমাল। গ্রামবাসীরা সমবেতভাবে তৎকালীন জেলা শাসক অমিতকুমার সিংহের কাছে দরবার করেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ডিএম বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট রেভিনিউ অফিসারকে। প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, এই জমি প্রথমে সোসাইটি এবং পরে যজ্ঞদত্ত ভুরিয়ার হাতে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের আইনজীবী নিত্যানন্দ দ্বিবেদীর দাবি, ইউপি সোসাইটিস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী, আদর্শ সোসাইটি সম্পূর্ণ অবৈধ। নিয়ম বলছে, রাজ্যের বাসিন্দা হলেই একমাত্র সোসাইটি তৈরি করা যাবে। কিন্তু আদর্শ কোঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড অফ উভার রেজিস্ট্রি হয়েছে রবার্টসগঞ্জে এবং তহশিলদার গ্রামসভার এই জমি সোসাইটিতে ট্রান্সফার করেন। একেও পুরোপুরি অবৈধ বলে দাবি দ্বিবেদীর। তাঁর দাবি, ১৯৬১ সাল পর্যন্ত জমি ট্রান্সফারের অধিকারই ছিল না তহশিলদারের হাতে।

জমি হস্তান্তর কিংবা কেনায় জালিয়াতি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে আদালত। এদিকে প্রধান যজ্ঞদত্ত ভুরিয়া বারবার দাবি করেছেন, এই জমি তাঁর। অন্যদিকে গ্রামবাসীদের দাবি, এই জমি গ্রামসভার। আদালতে এই নিয়ে মামলাও চলছে।

জমি দখল করে এর আগেও দু’বার চেষ্টা চালিয়েছেন যজ্ঞদত্ত ভুরিয়া। কিন্তু প্রতিবারই বিফল হয়েছে জমি দখলের উদ্যোগ। কিন্তু ১৭ ই জুলাই সব সীমা ছাড়িয়ে গেল। প্রধানের বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হল ১০ আদিবাসী মানুষের।

আরও পড়ুন: চিনের থেকে অস্ত্র আমদানি বাড়াচ্ছে পাকিস্তান

Track Latest News Live on TheBengalStory.com and get news updates from West Bengal and around the world.

Nation