করোনাভাইরাস। এই এক শব্দে তোলপাড় দুনিয়া। চিন ছাড়িয়ে মারণ ভাইরাসের থাবা পৌঁছেছে ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত সহ গোটা বিশ্বে। মৃত্যু হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের।

করোনা শব্দের অর্থ কী?
স্প্যানিশ ভাষায় করোনা শব্দের অর্থ হল ক্রাউন বা রাজমুকুট।

কেন ক্রাউন?
করোনাভাইরাস এক ধরনের ভাইরাসের শ্রেণি বিশেষ। মুকুট বা ক্রাউনের মতো এই ভাইরাসের বাহ্যিক চেহারা। কারণ, মুকুটে যেমন স্পাইক থাকে তেমনই এই ভাইরাসের বহিরঙ্গেও মুকুটের মতো স্পাইক রয়েছে। যার ফলে একনজরে তা ক্রাউনের বেশ কাছাকাছি। মার্কিন মুলুকের অ্যাটলান্টার সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানাচ্ছে এই তথ্য।

তবে বিশ্ব প্রসিদ্ধ বিয়ার জাতীয় পানীয় করোনার সঙ্গে এই ভাইরাসের কোনও যোগ নেই।

নামকরণ
যে ভাইরাসের প্রকোপের জেরে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষিত হয়েছে বিশ্বজুড়ে, তার আদত নাম ‘২০১৯ নোভেল করোনাভাইরাস’। সংক্ষেপে 2019-nCoV। গত বছর ডিসেম্বরে যা সর্বপ্রথম রিপোর্ট হয় চিনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে। প্রথমেই বলা হয়েছে, এই ভাইরাস করোনাভাইরাস শ্রেণির এক প্রতিনিধি। অন্যান্য করোনাভাইরাস থেকে মানুষের অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট অথবা সার্স কিংবা মার্স হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

ভাইরাস ও রোগের নাম কি একই?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে এবিষয়ে বিশদ আলোচনা রয়েছে। যার নির্যাস হল, রোগের নাম ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ’ (COVID-19) এবং এই রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসের নাম ‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাস ২’ (SARS-CoV-2)।

ভাইরাস ও রোগের নাম কে দেয়?
ভাইরাস এবং তা থেকে হওয়া রোগ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই দু’য়ের নাম আলাদা। যেমন HIV হল সেই ভাইরাসের নাম যা AIDS রোগের জন্য দায়ী। সাধারণ মানুষ হামেশাই রোগের নাম জানেন, যেমন হাম বা মিসলস। কিন্তু এই রোগের ভাইরাসের (Rubeola, রুবেওলা) নাম জানেন না।

রোগের নাম ও ভাইরাসের নাম দেওয়ার পদ্ধতি ভিন্ন
ভাইরাসের নাম দেওয়া হয় তাদের জেনেটিক গঠন অনুযায়ী। পাশপাশি যে টেস্টের মধ্যে দিয়ে ভাইরাসটির পরিচয় মিলছে, তার নামের সঙ্গেও সাযুজ্য বজায় রাখা হয়। এর মূল কারণ ভাইরাস নিয়ে পরবর্তী গবেষণার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। ভাইরোলজিস্ট এবং বৈজ্ঞানিকরা সাধারণত ভাইরাসের নামকরণের দিকটি দেখেন। বিশ্বে ভাইরাসের নামকরণ করে ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অন ট্যাক্সোনমি অফ ভাইরাসেস’ (ICTV)।

রোগের নামকরণের বিষয়টি পুরোপুরি চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কিত। কারণ, তার মুখ্য উদ্দেশ্য রোগ প্রতিরোধ এবং সেই অনুযায়ী ওষুধ সংক্রান্ত গবেষণা, যা রোগ নিরাময়ে অব্যর্থ। ফলে এই কাজটি একা হাতে সামলায় WHO বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অফ ডিজিজেসে’র (ICD) তালিকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগের নাম দেয়। তাই চালু থাকে গোটা পৃথিবীজুড়ে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি ICTV ‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাস ২’ (SARS-CoV-2) নামে একটি নতুন ভাইরাসের নাম ঘোষণা করে। এই নাম বেছে নেওয়ার কারণ হল ২০০৩ সালে সার্সের প্রাদুর্ভাব হয়েছিল, সেই করোনাভাইরাসের সঙ্গে জেনেটিক্যালি নতুন এই ভাইরাস সম্পর্কিত। যদিও দুটি ভাইরাসের মধ্যে অনেক ফারাক।

একই দিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন ভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগটির নাম দেয় COVID-19। সেই সঙ্গে প্রকাশিত হয় এই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য নিরাময়ের গাইডলাইন।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us