কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ৫০০০ কোটির মানহানির মামলা প্রত্যাহার অনিল আম্বানীর, সিবিআইয়ের ক্লিনচিট মুলায়ম-অখিলেশকে, কীসের ইঙ্গিত, তুঙ্গে জল্পনা

ভোটের ফল প্রকাশের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে দেশের দুই প্রান্তে দুটি ঘটনা। যা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। প্রথমত, কংগ্রেস নেতা এবং ন্যাশনাল হেরাল্ডের বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন অনিল আম্বানী। দ্বিতীয় খবর, মুলায়ম-অখিলেশের বিরুদ্ধে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির মামলায় ক্লিনচিট দিয়েছে সিবিআই।

গোট ভোটপর্ব জুড়ে রাফাল ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি অনিল আম্বানীর বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছিলেন রাহুল গান্ধী সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতারা। রাফাল চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রবন্ধও ছাপা হয় ন্যাশনাল হেরাল্ডে। এই প্রেক্ষিতেই অনিল আম্বানীর সংস্থা রিলায়েন্স, কংগ্রেস নেতা এবং ন্যাশনাল হেরাল্ডের বিরুদ্ধে ৫০০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করে। আমেদাবাদের সিটি সিভিল অ্যান্ড সেশনস কোর্টে চলছে সেই মামলার শুনানি। কিন্তু মঙ্গলবার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা মানহানির মামলা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ন্যাশনাল হেরাল্ড এবং কয়েকজন কংগ্রেস নেতার আইনজীবীর দাবি, তাঁকে রিলায়েন্সের আইনজীবীর তরফে জানানো হয়েছে, সংস্থা মানহানির মামলা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গরমের ছুটির পর আদালত খুললেই, সরকারিভাবে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

অন্যদিকে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, মুলায়ম সিংহ যাদব এবং তাঁর পুত্র অখিলেশ যাদবের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি মামলায়, তারা কোনও প্রমাণ খুজে পায়নি। মেলেনি কোনও অপরাধমূলক কাজের প্রমাণও। তাই মুলায়ম-অখিলেশকে ক্লিনচিট দিতে তাদের কোনও আপত্তি নেই। ১১ বছর ধরে এই মামলা চলছিল। যদিও সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই দাবি করেছে, ২০১৩ সালের অগাস্টেই তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং সেকথা ভিজিল্যান্স কমিশনকেও জানানো হয়েছিল।

স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনার ঠিক দুদিন আগে এই দুই সিদ্ধান্ত ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। যে কংগ্রেস গোটা নির্বাচন পর্ব চলাকালীন রাফাল ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে গেল অনিল আম্বানীর এবং তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে, ভোটের ফল প্রকাশের ঠিক আগে, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানির মামলা প্রত্যাহার কীসের সঙ্কেত? অনেকে অবশ্য বলছেন, নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার পর, মামলা চালানোর খরচ বাঁচাতেই এই সিদ্ধান্ত অনিল আম্বানীর।

অন্যদিকে মুলায়ম-অখিলেশকে সিবিআইয়ের ক্লিনচিটও প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন মহলে। বিরোধী জোটে ভাঙন ধরাতেই কি মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত? নাকি আগাম বন্ধুত্বের বার্তা? যাতে সংখ্যা নিয়ে সমস্যায় পড়লে সমাজবাদী পার্টির শরণে যাওয়া যায়?

Comments are closed.