সরকারি সমস্ত মাদ্রাসা বন্ধ করছে অসমে বিজেপি সরকার, জনতার টাকায় ধর্মশিক্ষা নয়, জানালেন মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা

জনগণের টাকায় ধর্মীয় শিক্ষা চলবে না। এই যুক্তিতে সরকারি খরচে চলা সমস্ত মাদ্রাসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল অসমের বিজেপি সরকার। রাজ্যের শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বৃহস্পতিবার জানান, জনতার করের পয়সায় ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে যাওয়া বন্ধ।

বিশ্বশর্মা বলেন, আগে আমরা বিধানসভাতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলাম। ধর্মীয় শিক্ষায় কোনওভাবেই সরকারি অর্থ ব্যয় চাই না।

তাহলে কি অসমে সব মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যাবে? এ বিষয়ে হিমন্ত জানান, নভেম্বরে আমরা নোটিস জারি করছি। তবে বেসরকারিভাবে চলা টোল-মাদ্রাসা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। সেগুলি নিজের মতো চলতে পারে। আমরা কোনও মাদ্রাসা বা টোলের দায় নেব না।

সরকারি মাদ্রাসার শিক্ষকদের কী হবে? অসমের শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন গোটা রাজ্যে মোট ৪৮ জন মাদ্রাসা শিক্ষক রয়েছেন। তাদের সকলকে অন্য স্কুলে বদলি করে দেওয়া হবে।

এই নীতিতে সংস্কৃত টোলগুলিও কি বন্ধ হতে চলেছে? হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানাচ্ছেন, সংস্কৃত টোলের ব্যাপারটা ভিন্ন। বৃহস্পতিবার অসম বিজেপির দাপুটে নেতা তথা মন্ত্রিসভার হেভিওয়েট সদস্য বিশ্বশর্মা বলেন, সংস্কৃত টোলগুলোর ক্ষেত্রে মূল অভিযোগ ছিল তার পরিচালন কেন্দ্রীক। সেই লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেবে সরকার। যদিও গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি জানিয়েছিলেন, সরকারি খরচে চলা সমস্ত মাদ্রাসা ও সংস্কৃত টোল বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে অসম সরকার।

অসম সরকারের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর পক্ষে বিপক্ষে নানা মতামত উঠে এসেছে। AIUDF প্রধান বদরুদ্দিন আজমল বলছেন, বিজেপি ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিয়ে যদি মাদ্রাসা বন্ধ করে তবে পরেরবার বিধানসভায় ক্ষমতায় এসে তাঁরা আবার মাদ্রাসা চালু করবেন। তাঁর কথায়, ‘মাদ্রাসা বন্ধ করা চলবে না। এগুলি ৫০-৬০ বছর ধরে চলছে। বিজেপি গায়ের জোর দেখাচ্ছে।’

এই মুহূর্তে অসমে মোট ৬১৪ টি সরকারি মাদ্রাসা রয়েছে। বেসরকারি মাদ্রাসার সংখ্যা ৯০০। অন্যদিকে সরকারি সংস্কৃত টোলের সংখ্যা ১০০ এবং বেসরকারি টোলের সংখ্যা ৫০০ টি।

সরকারের দাবি, মাদ্রাসা চালাতে প্রতিবছর ৩-৫ কোটি টাকা খরচ হয়ে যায়। টোল চালাতে বছরে খরচ হয় ১ কোটি টাকা। টোলের ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত না নিলেও সরকারি মাদ্রাসাগুলোতে এই আর্থিক ব্যয় অবিলম্বে বন্ধ করতে চায় অসম সরকার।

Comments
Loading...