প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে লেখা অপর্ণা সেন, শ্যাম বেনেগাল, সুমিত সরকার, রামচন্দ্র গুহ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অনুরাগ কাশ্যপ সহ দেশের ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষর সম্বলিত খোলা চিঠি নিয়ে প্রত্যাশিতভাবেই শুরু হয়ে গিয়েছে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণের পালা। কিন্তু অন্যান্যবারের সঙ্গে এবারের মূল পার্থক্য হল, বিশিষ্টদের চিঠি দেওয়ার উদ্দেশ্যকে ব্যঙ্গ করে বেনজির আক্রমণের শুরুটা এবার হয়েছে মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথা রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের হাত ধরে। এখানেই শেষ নয়। খোলা চিঠি নিয়ে বিশিষ্টদের আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভিও। রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা যখন পত্র লেখক বিদ্বজ্জনদের আক্রমণ শুরু করে দিয়েছেন, তখন একই কাজে নেমেছেন রাজ্যের বিজেপি নেতারাও। প্রধানমন্ত্রীকে পত্র প্রেরক বিশিষ্টদের দেশদ্রোহী বলার পাশাপাশি শুরু হয়ে গিয়েছে কুকথা আর কুৎসা।
প্রধানমন্ত্রীকে বিশিষ্টদের লেখা খোলা চিঠি নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় পরপর বেশ কয়েকটি ট্যুইট করেন তথাগত রায়। জয় শ্রীরাম স্লোগান বর্তমানে উসকানিমূলক রণ-হুঙ্কার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশিষ্টদের এই মন্তব্যেই তীব্র আপত্তি তথাগত রায়ের। এই বিষয়ে বিশিষ্টদের সরাসরি আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি টেনে আনেন ১৯৪৬ এর দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংয়ের কথা। ‘১৬-১৯ শে অগাস্ট আল্লা-হু-আকবর স্লোগান দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মারা হয়েছিল। কিন্তু শেষ দু’দিন হিন্দু এবং পাঞ্জাবীরা পাল্টা জবাব দেয়’ বলে দাবি করেন তথাগত রায়। সেই সময় কেন আজকের পত্র প্রেরকরা চুপ ছিলেন, রাজ্যপাল তথাগতর গুচ্ছ ট্যুইটের মর্মার্থ এটাই। পাশাপাশি বিশিষ্টদের বেশিরভাগই বাংলার মানুষ, তাই তাঁদের উদ্দেশ্য বুঝতেও অসুবিধা হয় না বলেও ট্যুইট করেছেন তথাগত রায়।
এদিকে অপর্ণা সেন, শ্যাম বেনেগাল, রামচন্দ্র গুহ, অনুরাগ কাশ্যপদের আক্রমণ করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি টেনে এনেছেন ২০১৪ লোকসভা ভোটের পর সরকারি সম্মান ফেরত দিয়ে প্রতিবাদের প্রসঙ্গ। নকভি বলেন, আগেরবার ভোটের সময়ও এঁরা অ্যাওয়ার্ড ওয়াপসিতে মেতে উঠেছিলেন। এবার এল অ্যাওয়ার্ড ওয়াপসি পার্ট টু। ভারতে দলিত ও সংখ্যালঘুরা অত্যন্ত ভালো এবং নিরাপদে আছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নকভি এবং রাজ্যপাল তথাগত রায়ের এমন আক্রমণের সূত্র ধরেই শুরু হয়ে গিয়েছে লাগাতার ট্রোলিং এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের পালা। তথাগত রায়ের ট্যুইটের কমেন্ট সেকশনে গেলেই দেখা যাবে, বিশিষ্টদের চিঠিকে উপলক্ষ্য করে ঠিক কীভাবে তাঁদের আক্রমণে নেমেছেন সরকারি পদক্ষেপে সমর্থনকারী নেটিজেনরা। কেউ দাবি করছেন, স্রেফ রাজনৈতিক কারণেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন বিশিষ্টরা। আবার বিশিষ্টদের কাউকে চিট ফান্ড মামলায় অভিযুক্ত বলে মন্তব্য ছুঁড়েছেন কেউ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেও কমেন্ট করা হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে বিশিষ্টরা লিখেছিলেন, সরকারের বিরোধিতা করলেই তাঁকে দেশদ্রোহী বলে দাগিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করুন। চিঠি দেওয়ার পর তাঁরা বুঝতে পারছেন, তা বন্ধ হয়নি এবং বন্ধ করার কোনও উদ্যোগেরও দেখা নেই।
আরও পড়ুন: সংঘর্ষের রাজধানীতে নজির, হিন্দু মেয়ের সঙ্গে মুসলিম ছেলের বিয়ে হিংসা বিধ্বস্ত দিল্লিতে




